নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে শহরের রাজনৈতিক বৈরিতা ছাপিয়ে এক অভিনব রাজনৈতিক সৌজন্য ও প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল যাদবপুর। ভাঙার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতীকী বার্তা দিতে সটান সিপিএমের বইয়ের স্টলে হাজির হলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কেবল উপস্থিত হওয়াই নয়, সেখান থেকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিয়ে প্রকাশিত সংকলনগ্রন্থ ‘আওয়ার চেয়ারম্যান’-সহ একাধিক বইও কিনলেন তিনি। মতাদর্শগত ফারাক থাকলেও গণতান্ত্রিক অধিকার ও বইয়ের বিপণি রক্ষার প্রশ্নে এই অবস্থানকে তিনি চিহ্নিত করেছেন ‘ইস্যুভিত্তিক ঐক্য’ হিসেবে।
সম্প্রতি যাদবপুরের এই ঐতিহ্যবাহী বামপন্থী বুকস্টলটি ভেঙে ফেলার অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের খবর প্রকাশ্যে আসায় শোরগোল পড়েছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই বিতর্কের আবহেই স্টলটিতে পা রাখেন কুণাল ঘোষ। সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন সুদীপ সেনগুপ্ত, শতরূপা ঘোষের মতো পরিচিত বাম নেতৃত্ব। দীর্ঘক্ষণ স্টলে ঘুরে বই দেখেন এবং বাম নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন তিনি।
পরে এই পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কুণাল জানান, বই কেনার উদ্দেশ্য থাকলে তিনি অন্য যেকোনো বিপণি থেকেই তা সংগ্রহ করতে পারতেন। কিন্তু যে স্টলকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে বই কেনা আসলে একটি জোরালো রাজনৈতিক ও নাগরিক প্রতিবাদ। তাঁর কথায়, সুদীপ সেনগুপ্ত তাঁর বহু পুরনো পরিচিত এবং অতীতেও তিনি একাধিকবার এই স্টলে এসেছেন। গত দু’বছর নানা ব্যস্ততায় আসা হয়ে ওঠেনি, তবে এবার বইয়ের স্টলে বুলডোজার চালানোর মানসিকতার বিরুদ্ধেই তাঁর এই সরাসরি উপস্থিতি।
https://x.com/KunalGhoshAgain/status/2111753260797464901
রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বামেদের প্রতি অবস্থানের কোনো পরিবর্তন ঘটছে? এ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, দল হিসেবে সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের তীব্র মতবিরোধ অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। কিন্তু মতাদর্শের লড়াই আর গণতান্ত্রিক পরিসর গুঁড়িয়ে দেওয়া এক জিনিস নয়। সময়ের দাবি মেনেই মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অন্যায্য আক্রমণের মোকাবিলায় ক্ষেত্রবিশেষে ইস্যুভিত্তিক সহমতের জায়গা তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
পুজোর মুখে লাল বইয়ের তাকে দাঁড়িয়ে এক বিপরীত মেরুর রাজনীতিকের বই কেনা ও প্রতিবাদের এই ছবি আপাতত রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে বই ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার এই বার্তা নাগরিক সমাজেও ইতিবাচক কৌতূহল তৈরি করেছে।




