নয়াদিল্লি: বুকে সংক্রমণ নিয়ে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৯৮ বছরের এই নেতাকে ফুসফুস সংক্রান্ত চিকিৎসার বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আপাতত চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। চলছে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা। হাসপাতাল সূত্রে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ আডবাণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বলে জানা গিয়েছে। বয়সজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে চলতি বছরের মে মাসেও তাঁকে একই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি ছিলেন তিনি। সে বারও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
বিজেপির উত্থানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম
ভারতীয় রাজনীতিতে লালকৃষ্ণ আডবাণীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজেপিকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। তিন দফায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন তিনি—১৯৮৬ থেকে ১৯৯০, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ এবং ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত।
১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গুজরাতের সোমনাথ থেকে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল রাম রথযাত্রা। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত ওই রাজনৈতিক কর্মসূচি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল। যাত্রাপথে বিহারের সমस्तीপুরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে রামমন্দির আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাতেও আডবাণীর নাম উঠে এসেছিল। পরে ওই ঘটনার মামলায় বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁকে এবং অন্য অভিযুক্তদের খালাস করে।
উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে
অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আডবাণী। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্ব সামলানোর পর ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের উপপ্রধানমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রিত্বের সময়েই ১৯৯৯ সালের কার্গিল সংঘাত এবং ২০০১ সালে সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল।
এর আগে ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের সংগঠন বিস্তার, জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান মজবুত করা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত আডবাণী। ২০২৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন তিনি। তার আগে ২০১৫ সালে পেয়েছিলেন পদ্মবিভূষণ।
আপাতত চিকিৎসকদের নজরদারিতে
৯৮ বছর বয়সে বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় আডবাণীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক ভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপাতত তাঁকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চলছে। তাঁর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।





