তামিলনাড়ু, নিউজ ডেস্ক: এ এক অনন্য নজির। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়, যাকে তামিলনাড়ুর সকল মানুষ থালাপতি বলে চেনেন; তিনি বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দীর্ঘদিনের আসন-বিন্যাসের প্রথা ভেঙে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। নিজের নির্ধারিত আসন ছেড়ে সামনের সারিতে মন্ত্রীদের পাশে গিয়ে বসেন তামিলনাড়ু মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে; সাধারণত মুখ্যমন্ত্রী স্পিকারের আসনের কাছে একটি আলাদা ও প্রশস্ত আসনে বসেন, এবং মন্ত্রীরা তাঁদের পদমর্যাদা অনুযায়ী তাঁর পাশেই সামনের সারিতে বসেন। ২৩৪ সদস্যের এই কক্ষে বিরোধী দলনেতা এবং বিভিন্ন বিধানসভা দলের নেতারা তাঁদের দলের সদস্য সংখ্যার অনুপাতে আসন গ্রহণ করে থাকেন। তাঁদের দলের সদস্যরা তাঁদের পেছনে বসেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলের অধিবেশন চলাকালীন, বিজয় স্পিকার জেসিডি প্রভাকরের ডানদিকে থাকা নিজের নির্ধারিত আসন ছেড়ে উঠে যান। এরপর মন্ত্রী কে.এ. সেনগোত্তাইয়ান (যিনি ‘লিডার অফ দ্য হাউস’ বা সদন নেতাও বটে) আদাভ অর্জুন-র মাঝখানে গিয়ে বসেন। সদনের কার্যপদ্ধতি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটে। অন্যদিকে, পরবর্তী সময়ে বিজয়ের এই অস্বাভাবিক আসন পরিবর্তন নিয়ে বৃহস্পতিবারের বিধানসভা অধিবেশনে সরগরম হয়ে ওঠে। এই ঘটনা বিজয়ের পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রীদের প্রথাগত আসন-বিন্যাস ব্যবস্থার ব্যতিক্রম।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার, বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় বিধানসভায় বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উদয়নিধি 'কারুর পদপিষ্টের ঘটনা' বা ‘স্ট্যাম্পিড’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন যে, 'পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলে যখন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান বিধানসভা অধিবেশনে সেই মাত্রার প্রশাসনিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।' বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাবে আধাভ অর্জুন জানান যে, ‘দপ্তরের সচিবরা পাশের একটি ওয়ার রুম-এ উপস্থিত ছিলেন এবং বিধায়কদের বক্তব্য ও উত্থাপিত বিষয়গুলো নোট করছিলেন।’
তবে, এই বিতর্কের প্রসঙ্গ ছাড়িয়েও উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়ে রইল ' আসন বদল'।