নিউজ ডেস্ক : রাজনীতিতে দলবদল নতুন বিষয় নয়। প্রতিনিয়তই দল পরিবর্তন রং পরিবর্তন করতে দেখা যায় নেতা-নেত্রীদের। রাজনৈতিক মহলে রঙিন মানুষ হিসাবে পরিচিত মদন মিত্র। বরাবরই নিজের মন্তব্যের জন্য চর্চিত থাকেন তিনি। আবারও একই দিনে এই নেতার মুখে বিপরীত দু-রকম মন্তব্য শুনতে পাওয়া যায়। যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের ‘আল্টিমেট’ নেত্রী বলে স্বীকার, আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য! কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে এবার তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নানা পরিবর্তনের জল্পনা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মমতা-বিরোধী শিবিরকে ঘিরে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন সেই শিবিরের সঙ্গে মদন মিত্রের নাম জড়ানোও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়েছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত মদন কি এবার সত্যিই শিবির বদলের পথে? তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মদন মিত্রের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। তাঁর কথায়, প্রতীক যাঁর হাতেই থাকুক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মমতাই দলের ‘আল্টিমেট’ নেত্রী। ইন্ডিয়া জোটের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্য, জোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক বা ব্যানারের চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, মমতা এবং তৃণমূল এই দুটি নামকে আলাদা করে দেখা যায় না।
এই মন্তব্যের ঠিক কয়েক ঘন্টা পরেই ফের সুর বদলাতে দেখা গেল মদন মিত্রকে। শুক্রবার রাতের একটি ভিডিওতে মদন মিত্রকে বলতে শোনা যায়, “আপনাদের নেত্রী, একদিন আমার নেত্রী ছিলেন।” অর্থাৎ, বর্তমান নয়, অতীত কালেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করলেন তিনি। আর তারপরেই শুরু হয় নতুন করে জল্পনা।
এরপরই নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করতে ফেসবুক লাইভে মুখ খোলেন কামারহাটির বিধায়ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “আমি ফিরব না। আমার লাশ ফিরবে।” ইংরেজিতে ‘মাই ডেড বডি উইল গো’ বলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা থাকলেও, তাঁর ধারণা মমতা তাঁকে এবং তাঁর মতো নেতাদের ঘৃণা করেন। মদনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের অপরাধ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করে তোলা।
শুধু মমতাকে ঘিরেই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন মদন মিত্র। শুভেন্দু নিজের রাজনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকী আগামী ২০ বছর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন বলেও দাবি করেন মদন। তাঁর এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। সুর চড়াচ্ছেন অন্যান্য নেতৃত্বরা। সব মিলিয়ে, মদন মিত্রের একই দিনে দুই ভিন্ন সুরে বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




