JAZZBAAT 24 বাংলা ডেস্ক: কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের জরুরি শুনানির আবেদনকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি উল্লেখ করা হলে আদালতের তরফে জানানো হয়, এই আবেদনে এখনই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
জানা গিয়েছে, গত ১৪ অগাস্ট কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে থাকার সময় গভীর রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহুয়া মৈত্রকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নোটিসকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় বিতর্ক। মহুয়ার অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের সুরক্ষা নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মাঝরাতে সার্কিট হাউস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একইসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই ঘটনার পরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর আইনজীবী সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য উল্লেখ করেন। আদালতে আইনজীবীর দাবি, একজন নির্বাচিত সাংসদকে রাতের অন্ধকারে এভাবে বের করে দেওয়ার চেষ্টা তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপের শামিল। বিষয়টির সঙ্গে মৌলিক অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত বলেও দাবি করা হয়।
মহুয়ার আইনজীবী আরও জানান, কলকাতা হাইকোর্টের তরফে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাতের বেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সার্কিট হাউসের বাইরে একদল লোকের বিক্ষোভের কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে। মহুয়া মৈত্রের পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রশাসনের এই আচরণ শুধু একজন সাংসদের বিষয় নয়, বরং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক অধিকার এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।
তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মামলাটির জরুরি শুনানিতে সায় দেয়নি। ফলে মহুয়া মৈত্রের করা এই আবেদনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। মামলাটি ঘিরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, পুরো ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।