মুর্শিদাবাদে স্বামীর সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে অশান্তির পর এক গৃহবধুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম নুরবানু বিবি। বয়স আনুমানিক ৩৯ বছর। শুক্রবার রাতে ভরতপুর থানার সৈয়দকুলুট গ্রামের বাড়ি থেকেই তার দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী ফিরোজ শেখ এবং অভিযোগে উঠে আসা ওই তরুণী পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পেশায় টোটো চালক ফিরোজ শেখের সঙ্গে নুরবানুর দীর্ঘদিন আগে বিয়ে হয়েছিল। তারা একই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন। তাদের দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ের ইতিমধ্যেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। পরিবার সূত্রে দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই ফিরোজের সঙ্গে এক অন্য মহিলার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চলছিল। নুরবানুর মেজো মেয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ে।
তার মেয়ের দাবি, শুক্রবার বাবা-মায়ের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। এরপর তার মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাদের বাড়িতে এক তরুণী আসেন বলে পরিবারের দাবি। খবর পেয়ে নুরবানু বাড়িতে ফিরে এলে ফের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। তার মেয়ের দাবি, সেই সময় সে পাশের ঘরে ছিল। পরে তার বাবা এবং ওই তরুণী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর ঘরে ঢুকে সে মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় ভরতপুর থানায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরবানুকে উদ্ধার করে ভরতপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহ ময়না তদন্তের জন্য কান্দি মহকুমা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দাম্পত্য অশান্তির জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। পাশাপাশি, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী ও ওই তরুণী সন্ধানে তল্লাশি শুরু করা হয়েছে।