কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: একি গণতন্ত্র নিয়ে বিতর্ক? যাদবপুরকাণ্ডে গতকাল ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বার্তার পরিপ্রেক্ষিতেই দেওয়াল লিখন নিয়ে সরব হলেন পড়ুয়ারা। তৈরি হয় বিতর্ক। বিতর্কের মধ্যেই উঠে আসে ভিন্নমত। কারও দাবি বাক-স্বাধীনতা নিয়ে। আবার ক্যাম্পাসে বিতর্কিত দেওয়াল লিখন যারা করেছেন; তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, এই দাবিও উঠল পড়ুয়াদের কণ্ঠে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে সোমবার কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেওয়াল লিখনের একাধিক ছবি পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, 'আর্টস বিভাগের বয়েস হস্টেলে আপত্তিকর, রাষ্ট্রবিরোধী দেওয়াল লিখনের বিষয়ে রিপোর্ট মিলেছে। কোনও পরিস্থিতিতেই সেই জায়গাকে দেশবিরোধী ভাবনা প্রচারের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না।' যাদবপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের দেওয়ালে কালো রঙের লেখা 'লং লিভ কিষেণজি'। পাশে আঁকা কাস্তে হাতুড়ির সিম্বল। বামপন্থার প্রমাণ মেলে এই লেখা এবং আঁকা থেকে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'আমরাই কিন্তু এই স্লোগানগুলো CMO-কে পাঠাই। আমরা খুবই আপ্লুত এবং স্বাগত জানাই যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ব্যাপারটায় হস্তক্ষেপ করেছেন। শুধু ওগুলো মুছে দিয়েই নয়, যারা যারা ওগুলোকে এঁকেছে তাদের বিরুদ্ধেও আশা করছি অ্যাকশন নেবে। মুখ্যমন্ত্রী বোধ হয় শুক্রবারে আসছেন। তথ্যপ্রমাণ-সহ সব অভিযোগ আমরা ওনাকে জানাতে চাই।'
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে অনেক জায়গায় চোখে পড়ে, 'ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্র্যাসি' এ'দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড'-র মত শব্দগুচ্ছ। তবে, এই শব্দগুচ্ছ নিয়েই পড়ুয়াদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কও। বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্র, অর্পণ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এব্যাপারে মন্তব্য করেন, 'বাজপেয়ী সরকার খোলাখুলি বলেছিল যে আমরা প্যালেস্তাইনকে বিশ্বাস করি ওই ল্যান্ডটা প্যালেস্তাইনের এবং ইজরায়েল সেটা দখল করে রয়েছে। এটা নিয়ে কথা বলা আমার মনে হয় না কোনও খারাপ বিষয় বা অ্যান্টি ন্যাশনাল বিষয়। অন্যদিকে আরেক ছাত্র কিশলয় রায় বলেন, 'দেশ বিরোধী স্লোগান বা দেশবিরোধী গ্রাফিতি কোনওমতেই ভারতবর্ষ বা যে রাজ্যে সংবিধানের শাসন থাকবে, সেসব জায়গায় মেনে নেওয়া যায় না। এখানে যে বিভিন্ন রকম দেশবিরোধী স্লোগান এসব কোনওরকমভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।'
চাপানউতোরের আবহে মুখ খুলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। এই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ সদ্যই বলেছেন, 'দিল্লির JNU-তে হচ্ছিল কিনা এরকম পরিবেশ? রাষ্ট্রীয় বিরোধী গতিবিধি, স্লোগান, গাঁজা, চরস। সমাধান হয়েছে সেখানে। দেশ বিরোধী শক্তির আধিপত্য ছিল। পশ্চিম বাংলা থেকে বাংলাদেশি-রাজ চলে গেছে, ওখান থেকেও চলে যাবে। আর তার জন্য শুরু হয়েছে অপারেশন! চলবে ধীরে ধীরে!'
এর প্রত্যুত্তরে কুণাল ঘোষ জানান, 'যারা হঠাৎ বলে দেবে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি আমরা সেটা সমর্থন করি না। কিন্তু তার জন্য আইনমাফিক যা যা ব্যবস্থা হওয়ার সেগুলো হবে। তারজন্য গুন্ডা পাঠানো হবে কেন? শুভেন্দু বাবু মুখে এইগুলো কথা বলছেন, এই তদন্ত ওই তদন্ত! আগে প্রথম হামলা করতে গেছিল, আগে হামলাটা থামান না। আগে গিয়ে পুলিশ অ্যারেস্ট করুক দোষীদের।'
সমস্ত ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপারউতোরের পাশাপাশি যাদবপুরের দেওয়ালে স্লোগান লেখা নিয়ে যে মতানৈক্য উঠে এসেছে, তা আসলে কোন দিকে ইঙ্গিত করছে? প্রশ্নটা রয়েই গেল।