নিউজ ডেস্ক: গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই থমকে গেল যাত্রা। একের পর এক রেলপথ পেরিয়ে এগিয়ে চলেছিলেন তাঁরা। কিন্তু উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে পৌঁছতেই তাঁদের ঘিরে তৈরি হলো সন্দেহ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে শুরু হলো তল্লাশি। এর পরে সামনে আসে এমন কিছু তথ্য, যা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ। তাঁদের যাত্রার পেছনে আরও কারোর হাত ছিল কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সোমবার নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশনে ডাউন বিবেক এক্সপ্রেস থেকে এক নাবালিক-সহ পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর ত্রিপুরা থেকে একাধিক ট্রেন পরিবর্তন করে পৌঁছেছিলেন এনজিপিতে। সেখান থেকে তাঁদের হায়দ্রাবাদ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, বিবেক এক্সপ্রেস এনজেপি স্টেশন এর ৬ নম্বর প্লাটফর্মে ঢুকতেই গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় এনজেপি জিআরপি, শিলিগুড়ি জিআরপির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং সাদা পোশাকের পুলিশের একটি বিশেষ দল। ট্রেনের সাধারণ কামরায় তল্লাশি চালানোর সময় সন্দেহের ভিত্তিতে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুজন পুরুষ, দুজন মহিলা এবং একজন নাবালক। তাঁদের নাম নূর মহম্মদ (৫৫), মীর কাশেম (৫৯), কাশমীন (১৯), মুকার রামা (১৮) এবং মহম্মদ জাশির (১৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছেন , ভারতে প্রবেশের সময় তাঁদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছিল না।
জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাঁচজনকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করে এনজেপি জিআরপি। তবে, কিভাবে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করলেন সেই পথেই বা তাঁদের সাহায্য করেছিল কারা, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশের নজর এখন এই যাত্রার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য দালালচক্রের দিকে। সীমান্ত পারাপার থেকে শুরু করে ত্রিপুরা হয়ে হায়দ্রাবাদ যাওয়ার পরিকল্পনা, প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ।




