নয়াদিল্লি: অফিসে কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি খেতে চান? সে উপায়ও নেই! শুধু কফি মেশিন থেকে পানীয় নেওয়া নয়, বাড়ি থেকে থার্মসে করে কফি আনা কিংবা দোকান থেকে ক্যানবন্দি কফি কিনে খাওয়াও নিষিদ্ধ। কারণ, তাতে নাকি কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আরও অদ্ভুত বিষয়, কর্মীকে কফি খেতে বারণ করার পাশাপাশি বসের পরামর্শ, কফি খাওয়ার প্রয়োজন হলে বরং এক ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসুন! এমনই বিচিত্র নিয়মের কথা সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এনে আলোচনায় এক কর্মী। তাঁর দাবি, সহকর্মীরা বসের আচরণে এতটাই ভীত যে কেউ এই নিয়মের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে রেডিটের ‘অ্যান্টিওয়ার্ক’ ফোরামে। ওই কর্মীর বক্তব্য, অফিসে কফি মেশিনটি মাত্র ২০ সেকেন্ডের হাঁটা পথ। তবু কাজের সময় সেখানে গিয়ে কফি খাওয়ার অনুমতি নেই। শুধু তা-ই নয়, নিজের সঙ্গে করে থার্মসে কফি নিয়ে আসা কিংবা ক্যানবন্দি কফি খাওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ম্যানেজারের যুক্তি, কাজের সময় কফি খেলে কাজে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে।
ওই কর্মী লিখেছেন, এর আগে অন্য কর্মক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি তাঁর। বরং কিছু জায়গায় কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সহকর্মীরাই তাঁকে কফি মেশিন থেকে পানীয় নিয়ে আসতে বলতেন। কিন্তু বর্তমান কর্মস্থলে সামান্য কফি খাওয়ার স্বাধীনতাটুকুও নেই বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে এই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা এখনই ভাবছেন না ওই কর্মী। তাঁর দাবি, তিনি এমন একটি বিশেষ পেশায় কাজ করছেন, যেখানে দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে কেরিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই কারণেই আপাতত চাকরিটি চালিয়ে যেতে চান। তাঁর পরিকল্পনা, প্রথম মাস শেষ করে চুক্তিতে সই করা পর্যন্ত নিয়ম মেনে চলবেন। যদিও চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই একাধিক ব্যক্তি তাঁকে ওই ম্যানেজারের আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
কফি খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞাই অবশ্য ওই কর্মীর একমাত্র অভিযোগ নয়। তাঁর দাবি, অফিসের দেওয়ালঘড়িও ম্যানেজার ইচ্ছাকৃত ভাবে তিন মিনিট এগিয়ে রাখেন। কর্মীরা সেই ঘড়ির সময় ঠিক করে দিলে ম্যানেজার আবার সেটিকে তিন মিনিট এগিয়ে দেন। কেন এমন করা হয়, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা কর্মীদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনাও কর্মীদের উপর অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদাহরণ বলে মনে করছেন ওই কর্মী।
সমাজমাধ্যমে অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া এসেছে। একাংশের পরামর্শ, ম্যানেজারের অদ্ভুত নিয়ম ও আচরণের ঘটনাগুলি লিখিত ভাবে নথিবদ্ধ করে রাখা উচিত। পাশাপাশি অন্য চাকরির সুযোগও খুঁজে দেখা যেতে পারে। এক নেটাগরিকের বক্তব্য, মানুষ অনেক সময় খারাপ চাকরির জন্য নয়, খারাপ বসের জন্য চাকরি ছাড়েন। অন্য এক জনের মতে, কর্মীদের কফি খেতে বারণ করে এক ঘণ্টা দেরিতে আসতে বলা সমস্যার সমাধান নয়। এতে কর্মীর কাজের দক্ষতা বা দায়িত্ববোধের উন্নতি হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
আবার কয়েক জনের বক্তব্য, কর্মক্ষেত্রে নিয়ম থাকা প্রয়োজন হলেও তা যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত। কাজের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা বা নির্দিষ্ট পেশাগত শর্তের কারণে কোনও বিধিনিষেধ থাকতেই পারে। কিন্তু তার যৌক্তিকতা কর্মীদের কাছে পরিষ্কার করা জরুরি। সামান্য বিরতি বা পানীয় গ্রহণের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের মনোবল ও কর্মপরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে বস ও কর্মীর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কাজের সময় মেনে চলা, দায়িত্ব পালন এবং সংস্থার নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা যেমন জরুরি, তেমনই কর্মীদের প্রতি যুক্তিসঙ্গত আচরণ ও পারস্পরিক সম্মানও প্রয়োজন। কর্মীদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করার বদলে তাঁদের কাজের মান, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের উপর গুরুত্ব দেওয়াই সুস্থ কর্মপরিবেশ তৈরির অন্যতম শর্ত।





