নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: অলিম্পিকে পদকের সংখ্যা বাড়াতে হলে শুধু পরিচিত খেলাগুলির উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। একটি ‘তিক্ত সত্যি’ মনে করিয়ে দিয়ে এবার নতুন নতুন খেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়ালগ’-এ ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি বলেন, অলিম্পিকের মোট পদকের বড় একটি অংশে ভারতের কোনও প্রতিযোগীই নেই। তাই পদক জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে যে খেলাগুলিতে এত দিন ভারত প্রায় অনুপস্থিত, সেখানেও ভিত শক্ত করতে হবে। নরেন্দ্র মোদী-র কথায়, খেলাধুলাকে শুধু পদক জয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না। দেশের উন্নয়ন ও যুবশক্তিকে একসূত্রে বাঁধার বড় হাতিয়ার হিসেবেও দেখতে হবে।
পরিসংখ্যানও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে জোরালো করছে। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে মোট ৩২টি খেলায় প্রতিযোগিতা হয়েছিল। তার মধ্যে ভারত অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৬টিতেই। অর্থাৎ অর্ধেক খেলাতেই দেশের কোনও প্রতিনিধিত্ব ছিল না। মোদীর বক্তব্য, ‘‘বিশ্বের অন্য দেশগুলি যে সব খেলায় পদক জেতে, আমরা সেই সব খেলায় অনেক ক্ষেত্রেই অংশই নিই না।’’ তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি কয়েক দশক ধরেই চলে আসছে। ফলে পদকের সংখ্যা বাড়াতে হলে নতুন খেলাগুলিতে প্রতিভা খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো গড়ে তোলার দিকে জোর দিতে হবে।
কোন কোন খেলায় ভারত এগোতে পারে, তার উদাহরণও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সার্ফিং এবং স্পোর্ট ক্লাইম্বিংয়ের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, ভারতের রয়েছে দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকা। ফলে বিভিন্ন ধরণের জলক্রীড়া থেকে শুরু করে শীতকালীন বা পাহাড়ি খেলায় প্রতিভা খোঁজার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে দেশজুড়ে প্রতিভা অন্বেষণের কথা জানিয়েছিলেন মোদী। সেই উদ্যোগের লক্ষ্যই হল ভবিষ্যতে অলিম্পিকের আরও বেশি খেলায় ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ভারতের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও ফের মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ২০৩০ সালে ভারত কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে বলেও জানান তিনি। জাতীয় ক্রীড়া দিবসের আগে হকি কিংবদন্তি মেজর ধ্যানচাঁদকেও শ্রদ্ধা জানান মোদী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে প্যারা-অ্যাথলিটদের অনুপ্রেরণার কথাও। শীতল দেবী, অবনী লেখারা, ঝান্ডু কুমার ও সুমিত আন্টিলের মতো ক্রীড়াবিদদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝান, একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য শুধু তাঁর নিজের নয়। বরং পরিবার, শহর এবং গোটা দেশের পরিচয়কেও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট। অলিম্পিকের মঞ্চে বড় সাফল্য চাইলে শুধু পদকের হিসাব নয়, অংশগ্রহণের পরিধিটাই আগে বড় করতে হবে।