স্পোর্টস ডেস্ক: লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের হেড কোচ সরফরাজ আহমেদকে ঘিরে তৈরি হল অন্য রকমের উত্তেজনা। মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নের মাঝেই উঠে এল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ। সেই প্রশ্নেই কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন পাকিস্তানের কোচ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে কী আলোচনা হয়েছিল, তা নিয়ে সরফরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু ম্যাচ নিয়েই ভাবছি।’’
বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন এক সাংবাদিক জানতে চান, সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হলে দ্বিতীয় সেশনে মাঠে না নামার কোনও সিদ্ধান্ত সত্যিই পাকিস্তান দলের ছিল কি না। প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই সরফরাজ বলে ওঠেন, ‘‘না, না, না, না।’’ তার পর তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘‘আপনি সাক্ষাৎকারের কথা বলছেন? আমরা সাক্ষাৎকার সম্পর্কে কিছুই জানি না। সব ঠিক ছিল। সেই সময় আমরা লাঞ্চ করছিলাম।’’ তাঁর এই প্রতিক্রিয়াতেই সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নটি নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়।
মাইকেল আথারটনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে তাঁদের বাবার জেলবন্দি থাকা এবং তাঁর সঙ্গে জেল-পরবর্তী আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইমরান ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগে উক্ত চ্যানেলকে অভিযোগ জানিয়েছিল পাক বোর্ড। এমনকি পাকিস্তানের বয়কটের হুমকির জেরে ইংল্যান্ড বোর্ড-ও ব্রিটেনের Foreign, Commonwealth and Development Office-এর পরামর্শ নিয়েছিল বলে খবর। তবে শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি দেখানো হয় এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও মাঠে নামেন।
ঘটনার আর একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, পাকিস্তানে এই টেস্ট সিরিজের সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে সে দেশের সরকারি চ্যানেল। তারা মূল সম্প্রচারকারী চ্যানেলের ফিড ব্যবহার করলেও ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারের সময় সেটি সম্প্রচার না করে বিজ্ঞাপন দেখিয়েছে। অন্য দিকে, বাবর আজমের পাকিস্তান দলও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ফের মাঠে নামে। শুক্রবার সাক্ষাৎকারটি নিয়ে চ্যানেলের কাছে আর কোনও অভিযোগ পৌঁছয়নি বলেও খবর। ফলে ক্রিকেটের বাইরের এই রাজনৈতিক বিতর্ক আপাতত থামার লক্ষণ নেই। আর সেই বিতর্ক নিয়ে সরফরাজের ‘কিছুই জানি না’ অবস্থানই লর্ডসের সাংবাদিক বৈঠককে আরও সরগরম করে তুলেছে।