কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: লর্ডসে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই তৈরি হল নজিরবিহীন বিতর্ক। প্রাক্তন পাক অধিনায়ক তথা পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার ঘিরে তুমুল অশান্তির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছিল, সম্প্রচারকারী চ্যানেলে ওই সাক্ষাৎকার যেন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে না দেখানো হয়। এমনকি দাবি মানা না হলে বাবর আজমের দল মাঠে নামবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে একাধিক রিপোর্টে। কিন্তু পিসিবির আপত্তি উপেক্ষা করেই নির্ধারিত সময়ে ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে চ্যানেল।
বিষয়টি আরও নাটকীয় মোড় নেয় লাঞ্চ ব্রেকের পর। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের পর পিসিবি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঠে না নামার নির্দেশ দেওয়ার কথা ভাবছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন এবং খেলা নির্ধারিত সময়েই এগোয়। ফলে মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি লর্ডসের বাইরেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল আথারটন। ইমরানের জেলবন্দি অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তাঁরা বাবার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কাসিমের দাবি, জেলে ইমরানকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে এবং তাঁর জীবন নিয়েও গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান অধিনায়কও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই ইমরানকে চিকিৎসার জন্য অল্প সময়ের জন্য জেল থেকে সরানোর পর ফের আদিয়ালা জেলে পাঠানো হয়েছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। ক্ষমতা হারানোর পর একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে জেলবন্দি। দুর্নীতির একাধিক মামলায় তাঁর দীর্ঘ কারাদণ্ড হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একটি মামলায় সাজা হয়েছিল। এ হেন পরিস্থিতিতে ইমরানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে পিসিবির আপত্তি এবং তার জেরে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার সম্ভাবনা। দুয়ে মিলে লর্ডস টেস্টকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। ক্রিকেটের মঞ্চে রাজনীতি ও খেলার সীমানা যেন মুছে গেল ফের এক বার।