অঙ্কন দাস: হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে এসেছিলেন ভ্রমণকারী পাকিস্তান নাগরিকরা। কিন্তু,তাদের প্রতি কঠোর সতর্কতা জারি করেছে পাকিস্তান। পাক সরকার জানিয়েছে 'ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ ও সৌদি ভিসা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এরই বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে পাকিস্তান।'
সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস বার্তা দিয়েছে, 'হজে আগত উমরাহ তীর্থযাত্রী ও কর্মীরা তথা পাকিস্তানি নাগরিকরা সৌদি আইন এবং ভিসার সাথে সংযুক্ত শর্তাবলী সম্পূর্ণরূপে মেনে চলুন।' তাঁদের এই বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করা হয় যে, 'এই নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে গ্রেপ্তার, আটক এবং নির্বাসন হতে পারে।' পাক দূতাবাসটি 'পাকিস্তান থেকে আগত সকল উমরাহ তীর্থযাত্রী ও কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা' ক্যাপশন দিয়ে সামাজিকমাধ্যমে একটি 'এআই-নির্মিত ভিডিও' শেয়ার করেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে ওই দেশের আইন ভাঙার পরিণতি সম্পর্কে সেদেশের দূতাবাসের সতর্কবার্তাও রয়েছে। পাক দূতাবাস জানিয়েছে, 'সৌদি কর্তৃপক্ষ ভিক্ষাবৃত্তি এবং অননুমোদিত সাহায্যের আবেদনের বিষয়ে, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর আশেপাশে, শূন্য-সহনশীলতা(জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে।পাকিস্তান থেকে আগত দর্শনার্থীদের অননুমোদিত স্থানীয় পরিষেবা প্রদান বা ব্যবহার না করার এবং যেকোনো আর্থিক সংগ্রহ বা সহায়তা যেন আইনসম্মত পথে সম্পন্ন করা হয়, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'
পাকিস্তান দূতাবাস তীর্থযাত্রী ও কর্মীদের এও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, 'অবশ্যই ভিসার শর্তাবলী ও মেয়াদ মেনে চলতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা অথবা ভিসার ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত নয় এমন কোনো কার্যকলাপে জড়িত হওয়া থেকে তাদের বিশেষভাবে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছর মোট হজ যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৬৭৩৩২০ জন, যার মধ্যে ১৫০৬৫৭৬ জন যাত্রী রাজ্যের বাইরে থেকে সৌদি আরবে হজ যাত্রা করেন। 'হজ যাত্রা' ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার এই হজ পালন করা আবশ্যক। এই তীর্থযাত্রায় বেশ কয়েকদিন ধরে একাধিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।এই অনুষ্ঠান গুলির বেশিরভাগই খোলা জায়গায় সম্পন্ন হয়।