নিউজ ডেস্ক : বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষদের বসবাস পশ্চিমবঙ্গে। সকল ধর্মের সমন্বয়ে গঠিত এই রাজ্যে এক প্রকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোটা দেশে। এবার সেই রাজ্যেই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে আগের ধর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাজি না হওয়ায় তিনটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে গোটা এলাকাতে।
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এলাকার। অভিযোগকারী তিনটি পরিবার গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। প্রায় ১৮ মাস আগে তারা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। পরিবারের মোট ন’জন সদস্যের অভিযোগ, গত ১৮ ও ১৯ অক্টোবর একদল ব্যক্তি তাঁদের উপর হামলা চালায় এবং খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ না করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেয়। এমনকি তাদের উপর মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের পরিবারগুলিকে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কয়েকটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। হামলায় একটি পরিবারের এক মহিলা অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। অন্য একটি পরিবারের এক কিশোরীকেও মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
শুধু তাই নয় তারা আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ না হওয়ার জন্য তাঁদের সতর্ক করেছিল অভিযুক্তরা। তবে শেষ পর্যন্ত ন’জন সদস্যকে থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁদের অভিযোগ নথিভুক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনার পর আক্রান্ত পরিবারগুলি বাড়ি ফিরে গিয়েছে। নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে ধর্মীয় বিরোধই মূল কারণ, নাকি স্থানীয় বিবাদ কিংবা পুরনো পারিবারিক শত্রুতার কোনও যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।




