নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: বাংলার চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমারকে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে উত্তম কুমারের অভিনয়জীবন, তাঁর সাফল্যের পিছনে থাকা কঠোর পরিশ্রম এবং কখনও হার না মানার মানসিকতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোদী বলেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তাঁর অভিনয় বহু প্রজন্মের দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে সত্যজিৎ রায় ‘নায়ক’ ছবির চিত্রনাট্য উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই তৈরি করেছিলেন। সত্যজিৎ রায়ও উত্তম কুমারের অভিনয়ের গভীরতা এবং তাঁর চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, উত্তম কুমারের জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা হল ব্যর্থতার পরেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে তাঁর একাধিক ছবি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। কিন্তু তাতে তিনি থেমে যাননি। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ রেখে পরিশ্রম চালিয়ে গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেই অধ্যবসায়ই তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।
কলকাতার সঙ্গে উত্তম কুমারের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। মোদী জানান, কলকাতায় একবার রোড শো করার সময় তিনি উত্তম কুমারের বাড়ির সামনে দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় এক ব্যক্তি তাঁকে উত্তম কুমারের একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতির কথাও ‘মন কি বাত’-এ তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে বাংলায় উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উত্তম কুমার চিরদিন মানুষের মনে রাজ করবেন।” তাঁর এই মন্তব্যে ফের উঠে এল বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়কের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের প্রসঙ্গ।
এদিনের ‘মন কি বাত’-এ শুধু উত্তম কুমার নয়, নেশামুক্ত ভারত গড়ার বিষয়েও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে নেশামুক্ত যুব’ প্রচারাভিযান দেশজুড়ে চলছে। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি নেশার কারণে পরিবার ও সমাজের উপর যে প্রভাব পড়ে, সে বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও স্বচ্ছতা, ‘ভোকাল ফর লোকাল’, তিরঙ্গা সেলফি এবং গঙ্গার ঘাট পরিষ্কারের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে দেশের যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে যুক্ত করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।



