নিউজ ডেস্ক: মধ্য এশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ৪ দিনের সফরে বেরোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার নয়াদিল্লি থেকে উজবেকিস্তানের তাসখন্দের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। ২৯-৩০ অগাস্ট উজবেকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফর সেরে ৩১ অগাস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর কিরঘিজ প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ থেকে প্রতিরক্ষা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই মোদীর অন্যতম লক্ষ্য।
তাসখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন মোদী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, শক্তি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভবিষ্যতের ভারত-উজবেকিস্তান কৌশলগত অংশীদারিত্বের রূপরেখাও ঠিক করবেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সফর নিয়ে মোদী বলেছেন, ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘ইয়াঙ্গি উজবেকিস্তান’-এর অভিন্ন লক্ষ্যের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শক্তি ও ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে তিনি মিরজিওয়েভের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। তাসখন্দে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর স্মারক এবং তাসখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্রেও যাওয়ার কথা তাঁর।
উজবেকিস্তান পর্ব শেষ করে বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ বার সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে এই সম্মেলনের। ২০১৭ সাল থেকে ভারত এই সংস্থার পূর্ণ সদস্য। কিরঘিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়ে নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সুযোগের উপর ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন মোদী। সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বার্তাও দিতে পারেন তিনি। পাশাপাশি ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিত থাকার কথা।
বিশকেকের সম্মেলনে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-ও সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন। ফলে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন-এর মঞ্চে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে। সফরের আগে মোদীর বার্তা, মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা, সভ্যতাগত যোগাযোগ গভীর করা এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য।