নিউজ ডেস্ক: ২০২৫-২৬ মরসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসাবে ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের একাধিক তারকা। গোল করা থেকে শুরু করে গোলের সুযোগ তৈরি, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ কিংবা রক্ষণ সামলানো - বিভিন্ন বিভাগে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তাঁরা। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য তুলে ধরে সেই পারফরম্যান্সগুলিই সামনে এনেছে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেস, ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এরলিং হালান্ড এবং আর্সেনালের একাধিক ফুটবলার।
ব্রুনোর মরসুম কেটেছে সৃজনশীল ফুটবলের ছন্দে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক প্রিমিয়ার লিগে সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে নজির গড়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মরসুমে লিগে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা ২২। শুধু গোলের পাস দেওয়াই নয়, বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ফুটবলারদের মধ্যে তাঁর তৈরি করা গোলের সুযোগের সংখ্যাও ছিল সর্বাধিক। দলের আক্রমণভাগকে সচল রাখার পাশাপাশি মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি।
গোল করার ক্ষেত্রে আবার ধারাবাহিকতার অন্য নাম হালান্ড। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির নরওয়ের স্ট্রাইকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন। মাত্র ১১১টি ম্যাচে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। ২০২৫-২৬ মরসুমে ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫২টি ম্যাচে তাঁর গোলের সংখ্যা ৩৮। বক্সের মধ্যে নিখুঁত ফিনিশিং, শারীরিক শক্তি এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর স্ট্রাইকার করে তুলেছে। ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাই তাঁর নাম থাকা অপ্রত্যাশিত নয়।
আর্সেনালের রক্ষণভাগের দুই স্তম্ভ গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস এবং উইলিয়াম সালিবার পারফরম্যান্সও আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। প্রিমিয়ার লিগে মরসুমে ১৭টি ক্লিন শিটে গ্যাব্রিয়েলের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্সেনালের হয়ে তাঁর ক্লিন শিটের সংখ্যা ২৪। অন্য দিকে, সালিবা রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলার কাজেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতিতে আর্সেনালের ম্যাচ জয়ের হার ছিল ৭১ শতাংশ। তিনি না খেললে সেই হার নেমে এসেছিল ৫৭ শতাংশে। এই পরিসংখ্যানই দলের কাছে তাঁর গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।
আর্সেনালের মাঝমাঠে ডেকলান রাইসও ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ন’বার। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে ইংরেজ ফুটবলারদের মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। মাঝমাঠে বল জেতা, আক্রমণ শুরু করা এবং দলের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাইসের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে যুক্ত রদ্রি এবং মার্ক কুকুরেয়াও মনোনয়ন তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি দেখিয়ে দেয়, শুধু গোলদাতারাই নন, রক্ষণ ও মাঝমাঠে ধারাবাহিক অবদান রাখা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সও এই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।





