নিউজ ডেস্ক: মাদকবিরোধী প্রচারক পরমবিন্দর সিংহ ঝোটার হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনায় ফুটছে পঞ্জাবের মানসা শহর। প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের জেরে দ্বিতীয় দিনেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ বিন্দুমাত্র কমেনি। ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুবিচারের দাবিতে ১৫ অক্টোবর রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক বন্ধের ডাক দিয়েছেন নিহত আন্দোলনকারীর পিতা ভীম সিংহ। পরিবারের স্পষ্ট অবস্থান, প্রকৃত বিচার না পাওয়া পর্যন্ত পরমবিন্দরের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে না।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে মানসায়, যখন আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারান পরমবিন্দর। স্থানীয় স্তরে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে লাগাতার আওয়াজ তুলে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং অভিযুক্তের ওষুধের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযুক্তের বাড়ির একটি অংশে বুলডোজার চালানো হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎপর হয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্ত অশ্বিনী কুমার নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে প্রতিবেশী রাজ্য রাজস্থান থেকে গ্রেফতার করেছে।
https://x.com/ANI/status/2110601941663531244?s=20
এদিকে ঘটনার গভীরতায় রাজ্য রাজনীতিও তোলপাড়। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান স্পষ্ট ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন, এই নারকীয় ঘটনায় যুক্ত কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে বরফ গলেনি। নিহত অ্যাক্টিভিস্টের বাবা ভীম সিংহ সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বৃহস্পতিবার সার্বিক বন্ধের ডাক দেন।
ভীম সিংহের এই ডাকে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া মিলেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে। কংগ্রেস, শিরোমণি অকালি দল, বিজেপি এবং অকালি দল-র মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একযোগে এই বন্ধকে সমর্থন জানিয়েছে। পিছিয়ে নেই রাজ্যের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলিও,সংযুক্ত কিসান মোর্চা-সহ বিভিন্ন কৃষক ও কর্মচারী ইউনিয়নগুলি এই কর্মসূচিতে পূর্ণ সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে।
এমনকি শিখ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পরিচালন পর্ষদ, শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটিও এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবং বন্ধের সমর্থনে সুর মিলিয়েছে।
বর্তমানে মানসা শহরজুড়ে কড়া পুলিশি পাহারা থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ স্পষ্ট। দীর্ঘ দিন ধরে মাদকের অভিশাপমুক্ত সমাজ গড়তে গিয়ে খোদ এক আন্দোলনকারীকেই জীবন দিতে হলো এই বাস্তব মেনে নিতে পারছেন না কেউই।




