নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। গোয়ার একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন,'মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভোট চুরির কাজ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সেই প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপথ্যে থেকে গোটা পরিকল্পনা করেন। ভোট কারচুপির মাধ্যমে দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত হানা হচ্ছে। এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই চলবে।' রাহুলের এই মন্তব্যেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
একইসঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মানহানির মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫টিরও বেশি মানহানির মামলা রয়েছে। অথচ ভোট চুরির অভিযোগ তোলার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক লড়াই জারি রাখার বার্তা দেন কংগ্রেস নেতা।
অন্যদিকে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে,'বর্তমানে শিক্ষার সুযোগ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যা বহু তরুণকে শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য, ক্ষমতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, যাঁদের হাতে টাকা বা প্রভাব নেই কিংবা যাঁরা ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না, তাঁদের এই ব্যবস্থা সহজেই পিছনের সারিতে ঠেলে দেয়। তাই দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রকৃত অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যায় না বলেই তাঁর মত।
সম্প্রতি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। গত ১০ অক্টোবর বিরাট প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে সামিল হন বিরোধীদের INDIA জোট। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হোক এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। ব্যারিকেড,পুলিশি নজরদারি এবং জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণের কারণে বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষকে আটক করার দাবিও করেছে সিজেপি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপে মুক্তি পান তাঁরা।





