কলকাতা, স্নিগ্ধা চৌধুরী: কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানেই রাজনাথ দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলায় পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজনাথ বলেন, “সব ক্ষেত্রেই বাংলা নতুন করে জেগে উঠছে। বাংলার হাওয়ায় এখন নতুন গন্ধ।” তাঁর কথায়, আগে বাংলা থেকে শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর আসত। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে এবং রাজ্য আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য সৎ থাকলে উন্নয়নকে কেউ আটকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিল্পায়নের প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, বাংলায় বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে শিল্পের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় বড় বিনিয়োগ আসতে পারে এবং তার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে তিনি জানান।
গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের পাঁচটি প্রকল্পে মোট প্রায় ৩,৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। GRSE-র ‘নবরত্ন’ মর্যাদা পাওয়াকেও বাংলার জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন রাজনাথ। তাঁর দাবি, সমুদ্র নিরাপত্তায় ভারতের শক্তি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও অস্ত্রের মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে ভারত এগোচ্ছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এখন ধীরে ধীরে ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অর্থাৎ শুধু দেশের প্রয়োজন মেটানো নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য জাহাজ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত।
এদিন যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের (YIL) ভূমিকারও প্রশংসা করেন রাজনাথ। প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতা বাড়াতে সংস্থাটির অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি YIL-কে ‘পরশপাথর’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
রাজনাথের বক্তব্যে একদিকে যেমন বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বার্তা উঠে এসেছে, তেমনই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যের পরিবর্তনের দাবিও সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।