কলকাতা, পিউ নন্দী: হাতে একটি সুতো, আর হৃদয়ে আজীবন আগলে রাখার নিঃশব্দ প্রার্থনা, ভাই বোনের অটুট বন্ধন এই রাখি বন্ধন। কিন্তু এবছর রাখির দিন চন্দ্রগ্রহণ। কিভাবে পূর্ণ হবে ভাই বোনের এই একে অপরকে আগলে রাখার প্রতিজ্ঞা নেওয়ার উৎসব।
২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট রাখি উৎসবের দিনেই আকাশে ঘটতে চলেছে বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ, যা রূপ নেবে রক্তিম মায়াবী এক 'ব্লাড মুন'-এ। শুভ উৎসবের দিনে ছায়াপথের এই খেলা স্বাভাবিকভাবেই বহু ভাই-বোনের মনে কিছুটা দ্বিধা ও আশঙ্কার জন্ম দিয়েছিল। তবে জ্যোতিষ ও ধর্মশাস্ত্রের আশ্বাস, এই মহাজাগতিক ঘটনা ভালোবাসার উৎসবে কোনো কালো ছায়া ফেলতে পারবে না।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২৮ আগস্ট সকাল ৬টা ৫৩ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে এই গ্রহণ। পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় চাঁদের সিংহভাগ ঢেকে গিয়ে তৈরি হবে তাম্র-লাল আলোর মোহময় দৃশ্য। বিশ্বের বহু প্রান্ত থেকে এটি দেখা গেলেও, ভারতের বুকে তখন দিনের আলো থাকায় এই গ্রহণ সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে।
আর শাস্ত্রমতে, যে গ্রহণ দেশের মাটিতে দৃশ্যমান হয় না, সেখানে কোনো সূতক কালের বিধিনিষেধ বা অশুভ প্রভাবও কার্যকর হয় না। ফলে মন্দিরের দ্বার যথারীতি উন্মুক্ত থাকবে, স্বাভাবিক ধর্মীয় আচার চলবে এবং বোনেরা পরম নির্ভরতায় তাঁদের ভাইদের হাতে পরাতে পারবেন সুরক্ষার রাখি।
উৎসবের আনন্দ নিখুঁত রাখতে তিথির দিকে নজর রাখা দরকার। উদয়তিথি অনুসারে শুক্রবার সকাল ৬টা ২৩ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে রাখি বাঁধার সর্বোত্তম সময়। যাঁরা সকালে সময় পাবেন না, তাঁরা দুপুর ১২টা ১৪ মিনিট থেকে ১টা ৫ মিনিটের অভিজিৎ মুহূর্ত কিংবা সন্ধ্যার গোধূলি লগ্নেও শুভ আচার সম্পন্ন করতে পারেন।
তবে শাস্ত্র মেনে সকাল ১১টা ৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রাহুকালের সময়টুকু এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সব সংশয় দূরে সরিয়ে, আকাশ ও পৃথিবীর এই বিরল সন্ধিক্ষণেও ভালোবাসার রাখির সুতোয় জয় হোক রক্তের অবিচ্ছেদ্য টানের।