স্পোর্টস ডেস্ক: অবসরের এক বছর পূর্ণ হতে আর কয়েক সপ্তাহ বাকি ছিল। তার আগেই প্রকাশিত হয়ে গেল সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার বিশেষ তালিকা। আর সেই সময়সীমার ফাঁকেই তালিকায় জায়গা হল না ভারতের প্রাক্তন বিশ্বের এক নম্বর ডাবলস খেলোয়াড় রোহন বোপান্নার। দেশের টেনিসে দীর্ঘদিনের অবদান এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক সাফল্য থাকা সত্ত্বেও নিয়মের বেড়াজালে আটকে গেলেন ৪৬ বছরের তারকা।
গত ১৬ অক্টোবর ক্রীড়াবিদদের বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থা। জাতীয় ক্রীড়া পরিচালনা বিধি, ২০২৬ অনুযায়ী, এই তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করার আগে অন্তত এক বছর সক্রিয় খেলা থেকে অবসর নেওয়া প্রয়োজন। বোপান্না পেশাদার টেনিস থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর। অর্থাৎ, তালিকা প্রকাশের দিন পর্যন্ত তাঁর অবসরের এক বছর পূর্ণ হয়নি। সেই কারণেই নিয়ম মেনে তাঁকে তালিকায় রাখা সম্ভব হয়নি।
আবেদনপত্রে আরও একটি শর্ত রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার আগের এক বছরে জেলা, রাজ্য বা ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হওয়ার মতো কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া চলবে না। তবে বোপান্না যে জেনেশুনে নিয়ম ভেঙে আবেদন করেছিলেন, এমনটা নয়। নিজের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকায় সংস্থার প্রশাসক গীতা মিত্তলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন তিনি। টেনিস সংস্থার কাছ থেকে যোগ্যতার আশ্বাস পাওয়ার পরেই আবেদন জমা দেন।
বোপান্নার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে আন্তর্জাতিক টেনিস থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের পর দেশের হয়ে আর না খেলার কথা জানান তিনি। তার আগে ২০২৩ সালে লখনউয়ে মরক্কোর বিরুদ্ধে ডেভিস কাপের ম্যাচকেই দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক টেনিস থেকে সরে দাঁড়ানোর পরেও পেশাদার সার্কিটে খেলা চালিয়ে যান তিনি। তাই তাঁর পেশাদার কেরিয়ারের অবসরের সময় হিসেবে ২০২৫ সালের নভেম্বরকেই ধরা হয়েছে।
বোপান্নার কৃতিত্বের তালিকাও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০১৭ সালে ফরাসি ওপেনে মিক্সড ডাবলস এবং ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পুরুষদের ডাবলস জেতেন তিনি। ৪৩ বছর বয়সে পুরুষদের ডাবলসে বিশ্বের এক নম্বর হয়ে নজির গড়েছিলেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক টেনিসে খেলতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়া ভারতীয় খেলোয়াড়দের সহায়তার জন্য তাঁর উদ্যোগও প্রশংসিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচ এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা প্রশিক্ষক ও ফিজিওথেরাপিস্টের যাতায়াতের জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।
সংস্থার প্রকাশিত তালিকায় মোট ৭০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪২ জন পুরুষ এবং ২৮ জন মহিলা। নিয়ম অনুযায়ী, তালিকায় থাকবেন ২০ জন পুরুষ ও ২০ জন মহিলা। এই ৪০ জন ক্রীড়াবিদ সংস্থার সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী কমিটিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোট দিতে পারবেন। প্রথম স্তরে রয়েছেন ১৯৯৬ সালের অলিম্পিক পদকজয়ী লিয়েন্ডার পেজ। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছেন ১২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী মহেশ ভূপতি এবং ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী সানিয়া মির্জা। তৃতীয় থেকে অষ্টম স্তরে রয়েছেন আরও একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান টেনিস ব্যক্তিত্ব। আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর মনোনয়ন জমা পড়বে। ৫ নভেম্বর হবে নির্বাচন।





