নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের জল্পনার মধ্যেই সামনে এল নতুন তথ্য। তথ্যের অধিকার আইন বা RTI-এর মাধ্যমে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ২৯ জুলাই ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এই চিঠি পাঠানোর ঘটনা এবং তার পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি ক্যাবিনেট সচিবালয়ে জমা পড়েছিল। সেখানে ৩০ জুলাই চিঠিগুলি নথিভুক্ত করা হয়। সুখবীর সিং সান্ধুর চিঠির ডায়েরি নম্বর ছিল CS/300/2026 এবং বিবেক জোশীর চিঠির ডায়েরি নম্বর ছিল CS/7289/2026। অর্থাৎ, চিঠি আদানপ্রদানের বিষয়টি সরকারি নথিতে নথিভুক্ত রয়েছে।
কী ছিল চিঠিতে? উঠছে প্রশ্ন
এই চিঠিগুলির বিষয়বস্তু ঠিক কী ছিল, তা RTI-এর উত্তরে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে কাজের বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষিতে এই চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দুই কমিশনারের মতপার্থক্য ছিল কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে চিঠির সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না আসায়, ঠিক কোন সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা বিভিন্ন দাবি ও জল্পনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
এক সপ্তাহের মধ্যেই জবাব
নথি অনুযায়ী, ২৯ জুলাই চিঠি পাঠানোর পর ৫ অগস্ট ক্যাবিনেট সচিব দুই নির্বাচন কমিশনারকে লিখিত উত্তর দেন। অর্থাৎ, চিঠি জমা পড়ার প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই তার জবাব দেওয়া হয়েছিল। এই সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগেও পাঠানো হয়।
পুরো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি ও ফাইল মিলিয়ে মোট ১৪ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। RTI-এর মাধ্যমে এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য সামনে এলেও, চিঠির বক্তব্য বা জবাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনও স্পষ্ট নয়।
কমিশনের অন্দরে কি বাড়ছে মতপার্থক্য?
নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কাজের বণ্টন নিয়ে কোনও অসন্তোষ থাকলে তার প্রশাসনিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তবে এই চিঠি আদানপ্রদান থেকেই কমিশনের অন্দরে বড় ধরনের সংঘাত রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। আপাতত RTI-এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে চিঠি পাঠানো এবং তার জবাব দেওয়ার বিষয়টি। চিঠির প্রকৃত বক্তব্য প্রকাশ্যে এলে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনার আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।





