নয়াদিল্লি: বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব আর সেই নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক শান্তি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার উপরেও তার প্রভাব পড়ে। এমনই বার্তা দিয়ে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে সরব হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই যুক্তি দিয়ে সমর্থন করা বা বৈধতা দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক স্তরে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, নয়াদিল্লিতে চিন্ময় মিশনের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যুদ্ধ যেখানেই হোক, তা সর্বত্র শান্তির জন্যই হুমকি।” বর্তমান বিশ্বের পারস্পরিক নির্ভরশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কেন সরব বিদেশমন্ত্রী?
জয়শঙ্করের বক্তব্য, কিছু দেশ এখনও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অসহিষ্ণু অবস্থান গ্রহণ করতে পারেনি। তার ফলে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে কিছু দেশ এখনও রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। যদিও বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম করেননি বিদেশমন্ত্রী।
সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদের কোনও রূপকেই যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এই সমস্যার মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংঘাত
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাতের প্রসঙ্গও উঠে আসে জয়শঙ্করের বক্তব্যে। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বোঝাতে চান, কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব গোটা বিশ্বের উপরেই পড়তে পারে। যুদ্ধের কারণে মানুষের জীবন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সমৃদ্ধি ও শান্তি কি একে অপরের পরিপূরক?
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতির পারস্পরিক নির্ভরশীলতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি যেমন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, তেমনই সংঘাত ও হিংসার প্রভাবও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের সম্পদের উপর পারস্পরিক নির্ভরতার কারণে একটি দেশে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব অন্য দেশেও পড়তে পারে।
জয়শঙ্করের এই বক্তব্যে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। তাঁর বার্তা, বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে সংঘাতের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি।




