নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। দেশের বাইরে অবস্থান করেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে ঘিরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন এবং দলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে সামনে এসেছে ডিসেম্বর মাসের প্রসঙ্গ। এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশে ফেরার ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার কারাবাস কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি তাঁকে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারবে না। তাঁর বক্তব্য, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ড পুনরায় শুরু করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার কথা তিনি আগেও জানিয়েছিলেন। এবারেও সেই অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানান তিনি।
শেখ হাসিনার বক্তব্যে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনে মুখে পড়ে ক্ষমতারচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কারণে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের তিনি চেষ্টা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পথ যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। শেখ হাসিনা ওই বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে, তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত ফেরার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। ফলে, তাঁর ঘোষণার বাস্তবায়ন কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




