কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কলম্বোর দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের শেষে। পাঁচ দিনের লড়াই শেষ পর্যন্ত ড্র হওয়ায় ভারতের সেই সিদ্ধান্তকে অনেকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। কিন্তু ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমান গিলের মতে, ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত মোটেই বুমেরাং হয়নি।
তাঁর যুক্তি, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখেই দলের স্বার্থে দ্রুত ম্যাচের ফল বার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট ৫০৩ রান তোলার পর শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে অলআউট করে ভারত। ফলো-অন করা লঙ্কাবাহিনী মাত্র ২১৩ রানে পিছিয়ে ছিল। তবু ফের ব্যাট করতে পাঠানো হয় তাদের।
চতুর্থ দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ২২৯। ভারতের জয়ের সম্ভাবনাই তখন প্রবল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিনে সোনাল দিনুশা-সহ শ্রীলঙ্কার ব্যাটারেরা দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। গোটা দিন ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচিয়ে ফেলেন তাঁরা। ফলে ভারতের সামনে জয় অধরাই থেকে যায়।
গিল অবশ্য মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেটিই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। তাঁর বক্তব্য, ফলো-অন না করিয়ে ভারত যদি ফের ব্যাট করত এবং বৃষ্টিতে ম্যাচের সময় নষ্ট হত, তখনও প্রশ্ন উঠত কেন ফলো-অন করানো হল না। তাই সেই মুহূর্তে দলের পক্ষে সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছিল।
তবে ম্যাচ ড্র হওয়ায় হতাশা যে রয়েছে, তা গোপন করেননি ভারত অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে পাঁচশোর বেশি রান করার পর শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস ২৯০ রানে শেষ করে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র দু’টি দ্রুত উইকেটও তুলে নিয়েছিল। গিলের কথায়, ওই পরিস্থিতিতে তিন দিনে ১৮টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জেতার আশা থাকাটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু শ্রীলঙ্কার ব্যাটারেরা নিজেদের কৃতিত্বে ম্যাচ বাঁচিয়েছেন। ঘরের মাঠে তাঁরা যে ভাবে লড়াই করেছেন, তারও প্রশংসা করেছেন গিল। বিশেষ করে ঘূর্ণি-সহায়ক পিচে ক্যাচ, এলবিডব্লিউ এবং বোল্ড—তিন ধরনের আউটই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেশ কিছু এলবিডব্লিউয়ের আবেদন ভারতের পক্ষে যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হলেও দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে ভারত। সিরিজ থেকে তরুণদের পারফরম্যান্সকেও বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন গিল। দেবদত্ত পাড়িক্কাল তাঁর তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্টেই ভালো খেলেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রথম টেস্ট সিরিজে নামা মানব সুথারকেও প্রশংসায় ভরিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। তিন টেস্টের সিরিজ নিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীরের মতের প্রসঙ্গও এসেছে।
গিলের মতে, তিন টেস্ট হলে ম্যাচের লড়াই আরও জমত, কারণ ড্রয়ের বদলে শ্রীলঙ্কাকে হয়তো জয়ের জন্য বেশি ঝুঁকি নিতে হত। তবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টের হিসাবে দুই বা তিন টেস্টের সিরিজে বড় কোনও পার্থক্য নেই। শেষ পর্যন্ত জয়ের সংখ্যা এবং মোট ম্যাচের ফলই মূল বিষয়।