নিউজ ডেস্ক: অসাধারণ কিছু আবিষ্কার করতে সব সময় দূরে যেতে হয় না। কখনও কখনও নিজের চারপাশের প্রকৃতিকে একটু মন দিয়ে দেখলেই খুলে যায় নতুন এক পৃথিবী। এই কথাকেই বাস্তবে রূপান্তরিত করলো মাত্র ১৪ বছর বয়সের হুগলী জেলার সিঙ্গুরের নবম শ্রেণির ছাত্রী কৃত্তিকা মুখোপাধ্যায়। বাংলার সিঙ্গুর থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক লহমায় পৌঁছে গেল কৃত্তিকা! এবছর লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম আয়োজন করেছিল ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতা। ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের বিভাগে সিঙ্গুরের অন্তর্গত গোলাপমোহিনী মল্লিক গার্লস হাইস্কুলে শিক্ষারত কৃত্তিকার তোলা ছবি ‘হোম কমফর্টস’ পেয়েছে ‘হাইলি কমেন্ডেড’ সম্মান এবং কৃত্তিকার এই সম্মান এনে দিয়েছে তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
এই ছবির বিষয় বস্তু আসলে কী? কৃত্তিকর বাড়ির বাগানে বাসা বেঁধেছিল একটি হর্নেট প্রজাতির পাখি এবং সেই হর্নেটটি যখন তার বাসা তৈরীর সামগ্রী মুখে নিয়ে ফিরছিল ঠিক তখনই হর্নেটটিকে লেন্সবন্দী করেছিল কৃত্তিকা। প্এই ছবিটি তুলতে ওর সময় লেগেছিল তিন প্রায় তিন বছর। দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিদিন হর্নেটের বাসাটিকে লক্ষ্য করার পর সে এই মুহূর্তটি অবশেষে কৃত্তিকার লেন্সে ধরা পরে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যবহার করে দীর্ঘ ফোকাল দৈর্ঘ্যের টেলিফটো লেন্স। ছবিটি তোলার জন্য সে ব্যবহার করেছিল নিকন ডি৮৫০ ক্যামেরা এবং ৩০০ মিলিমিটার এফ৪ লেন্স।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় ৬৫,৪০৩টি ছবি জমা পড়েছিল ১২১টি দেশ ও অঞ্চল থেকে। এর মধ্যে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয় প্রথম ১০০টি ছবি এবং সেই প্রদর্শনীতেই কৃত্তিকার বন্যপ্রাণীর ছবির পাশে জায়গা পেয়েছে সিঙ্গুরের এই কিশোরীর কাজ। কৃত্তিকার বাবা কল্লোল মুখোপাধ্যায় একজন ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার এবং দিদি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও পুরস্কারজয়ী আলোকচিত্রী। তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষারত অবস্থায় প্রথম ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। । তাঁদের কাছ থেকেই ক্যামেরা হাতে ছবি তোলার প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছে কৃত্তিকা। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রতিযোগিতার প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সেখানেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্বাচিত ছবির চলবে প্রদর্শনী।
কৃত্তিকার এই সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অসাধারণ কিছু খুঁজে পেতে সবসময় দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। চারপাশের প্রকৃতিকে মন দিয়ে দেখা, ধৈর্য রাখা আর কৌতূহলই খুলে দিতে পারে নতুন দরজা। এক সময়ের সিঙ্গুর জমি আন্দোলন ও টাটার ন্যানো প্রকল্প প্রত্যাহারের কারণে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু, এবার সেই সিঙ্গুরেরই আর এক পরিচয় তুলে ধরছে কৃত্তিকা—প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার, বোঝার এবং তাকে সংরক্ষণ করার এক নতুন প্রজন্মের গল্প। সিঙ্গুরের বাড়ির বাগান থেকে লন্ডনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে কৃত্তিকা তাই শুধু নিজের নয়, বাংলারও গর্ব বাড়িয়েছে। তার এই সফল আলোকচিত্রী সত্তা আরও অনেক কিশোর-কিশোরীকে প্পৃথিবীকে সামনে থেকে জানতে এবং লেন্সে তার সৌন্দর্য ধরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করুক।





