স্পোর্টস ডেস্ক: জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত ২৫ বছর বয়সী এক অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধের সামনে থমকে গেল ভারত। ড্র হল কলম্বোর সিংহলিজ় স্পোর্টস ক্লাবের মাঠে দ্বিতীয় টেস্ট। ফলে দুই টেস্টের সিরিজ় ১-০ ব্যবধানে জিতে নিলেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের রাস্তা আরও কঠিন হয়ে গেল শুভমান গিলদের জন্য। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে এই প্রথমবার শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করিয়েও ম্যাচ জিততে পারল না ভারত। ১৫৪ ওভারে ৯ উইকেটে ৪২৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা না করেই রূপকথার মতো ম্যাচ শেষ করল দ্বীপরাষ্ট্র। আর এই সবকিছু নেপথ্যে একজনই। সোনাল দিনুশা, তাঁর অবিশ্বাস্য, অবিচল ব্যাটিংই শেষ করে দিল ভারতের জয়ের আশা।
পঞ্চম দিন সকালে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ২২৯। দিনুশার রান তখন মাত্র ৭। খেলেছেন ৩৭ বল। এই জায়গা থেকেও যে ম্যাচ ড্র হতে পারে, সে কথা বোধহয় তখন অতি বড় লঙ্কান সমর্থকও বিশ্বাস করতে পারেনি। এদিন মোট ৮ জন বোলার হিসেবে হাত ঘুরিয়েছেন। এদের মধ্যে ছিলেন খোদ অধিনায়ক গিল, এমনকি কিপার ব্যাটায় ধ্রুব জুরেলও। কিন্তু সবাই মিলে একের পর এক আঘাত হানলেও, যাকে বলে, মাটি কামড়েই পড়ে থাকলেন দিনুশা। চা-বিরতির সময় ৯৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শেষ সেশনের প্রথম বলেই মহম্মদ সিরাজকে মিড-উইকেটে ফ্লিক করে পূর্ণ করেন শতরান। শেষ পর্যন্ত ২৬৪ বলে ১৩৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন তিনি। প্রথম ইনিংসেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ১০৩ রান। ফলে দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারতীয় বোলিংকে কার্যত একাই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এই শ্রীলঙ্কান ব্যাটার।
দুই ইনিংসেই শতরান করে দিনুশা জায়গা করে নিলেন একটি বিশেষ তালিকাতেও। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্টের দুই ইনিংসে শতরান করা ব্যাটারদের তালিকায় তিনি দ্বাদশ। ২০১৫ সালের পর ভারতের বিরুদ্ধে এই কীর্তি গড়া দ্বিতীয় ব্যাটার তিনি। এর আগে ২০২২ সালে এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো ১০৬ ও অপরাজিত ১১৪ রান করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে এই কীর্তি এর আগে করেছিলেন দু’জন। ১৯৮২ সালে চেন্নাইয়ে ১০৫ এবং ১০৫ করেছিলেন দিলীপ মেন্ডিস। অন্যদিকে ১৯৯৭ সালে কলম্বোর এসএসসি-তে ১৪৬ ও ১২০ রান করেন অরবিন্দ ডি সিলভা।
কলম্বোর দুই ইনিংসেই শুধু নয়, এর আগে গল টেস্টেও শতরান হাঁকিয়েছিলেন দিনুশা। এর ফলে আরও একটি নজির গড়েছেন তিনি। দুই টেস্টের সিরিজ়ে তিনটি শতরান করা দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কান ব্যাটার তিনি। এই তালিকায় দু'বার জায়গা পেয়েছেন অরবিন্দ ডি সিলভা। পাশাপাশি কুমার সঙ্গাকারা, জ্যাক কালিস, হাশিম আমলা, ইউনিস খান, মার্নাস লাবুশানে, কেন উইলিয়ামসনের মতো তারকারাও রয়েছেন। অন্যদিকে একই সঙ্গে টেস্টের দুই ইনিংসে শতরান করা অষ্টম শ্রীলঙ্কান ব্যাটার হলেন দিনুশা। সব মিলিয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড। এই সিরিজকে মনে করা হচ্ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিভা খোঁজার মঞ্চ। সেই মঞ্চেই ক্রিকেট দুনিয়াকে সোনাল দিনুশা নামের এক উপহার দিল শ্রীলঙ্কা।
অন্যদিকে ভারতের জন্য কঠিনের চেয়েও কঠিনতর হয়ে গেল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পথ। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন মানব সুথার এবং রবীন্দ্র জাদেজা। শেষ পর্যন্ত তাঁরা এই ম্যাচ জেতাতে পারলে বাংলাদেশকে সরিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসার সুযোগ ছিল গিলদের সামনে। ম্যাচ ড্র হওয়ায় ৫১.৫২ পয়েন্ট শতাংশ নিয়ে পঞ্চম স্থানেই থেকে গেলেন তাঁরা। অন্যদিকে ৪ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ৫৫.৫৬। অর্থাৎ এই পরিস্থিতিতে ফাইনালে যেতে হলে বাকি সবকটি ম্যাচই কার্যত জিততে হবে গৌতম গম্ভীরের ছাত্রদের। যা অসম্ভবের নামান্তর বললেও হয়তো অত্যুক্তি হয় না।