কলকাতা: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তাঁর মন্তব্যের পরই পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নাসিরুদ্দিন শাহের নিশানায় বিজেপি
একটি ভিডিয়ো বার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, দলটি হিংসা ছড়িয়েছে এবং নিজেদের নীতির সঙ্গে যাঁরা একমত নন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ উঠে এসেছে।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করে অভিনেতা বলেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। পড়ুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভয় দেখানো বা তাঁদের স্বাধীন চিন্তাভাবনায় বাধা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে দেবেন না বলেই তিনি আশাবাদী।
কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিলীপ ঘোষের
নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্যের পর পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এতদিন চলচ্চিত্র জগৎ মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু তখন নাসিরুদ্দিন শাহকে এভাবে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। বর্তমানে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ মাফিয়ামুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, এখন জাতীয়তাবাদী সিনেমা তৈরি হচ্ছে এবং দর্শকও আগ্রহ নিয়ে সেই ছবিগুলি দেখছেন। পাশাপাশি, অতীতে কালো টাকার সাহায্যে ছবি তৈরি করে হিন্দুত্ব ও দেশকে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
https://x.com/jazzbaatbangla/status/2114261931444085015?s=20
কেন আন্দোলনে উত্তাল এসআরএফটিআই?
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা।
পরিস্থিতির মধ্যে কর্তৃপক্ষ পুজোর ছুটি বাড়িয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত করে দেয় এবং হস্টেল ও মেস খালি করার নির্দেশ দেয় বলে জানা গিয়েছে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে জলের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হস্টেল ছাড়তে নারাজ আন্দোলনকারীরা আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
আন্দোলনের আগে নাসিরুদ্দিনের বার্তা
ছাত্র আন্দোলন যখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় নাসিরুদ্দিন শাহের সমর্থন পড়ুয়াদের আন্দোলনে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করেছে। অন্যদিকে, তাঁর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়ে দিলীপ ঘোষও রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। এখন নজর ২৭ অক্টোবরের প্রস্তাবিত আন্দোলনের দিকে।




