নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আবহে এমন এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা, যা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হতে দেখা গেল এক প্রিয় জনপ্রতিনিধিকে। কখনও নদী পেরিয়ে দুর্গম গ্রামে পৌঁছানো, কখনও আবার চলন্ত বাসের গেটে দাঁড়িয়ে হাত নাড়াতে নাড়াতে এগিয়ে চলা, ষষ্ঠীর দিন সকালে তাঁর এই কর্মকাণ্ডের পিছনে ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণের উদ্যোগ।
ষষ্ঠীর দিনে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের জন্য সুখবর। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে কাকদ্বীপ বিধানসভার রবীন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের গুন্ডাকাটা-পালোটার এলাকা থেকে জুমাই নস্কর ভায়া লক্ষ্মীকান্তপুর পর্যন্ত ১৪টি বাস চলাচলের শুভ উদ্বোধন করলেন সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। চোখে পড়ে বাসের গেটে দাঁড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে হাত নাড়তে নাড়তে প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রান্ত করলেন। সকালে প্যাসেঞ্জার নৌকায় নদী পার হয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে বাস পরিষেবার উদ্বোধন করেন তিনি। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রথম প্রত্যন্ত এই এলাকা থেকে বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশির হাওয়া গ্রামবাসীদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরেই যাতায়াতের সমস্যায় ভুগছিলেন এলাকার মানুষ। তাঁদের সেই সমস্যার সমাধানে বাস পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ১৪টি বাসের মধ্যে ছ’টি বাসের পারমিটের ব্যবস্থা করে পরিষেবা চালু করা হয়েছে। বাকি আটটি বাসের পারমিট আগামী এক মাসের মধ্যে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
এতদিন যাতায়াতের জন্য নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজনদের। বিশেষ করে দৈনন্দিন কাজ, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত ছিল তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এবার বাস পরিষেবা চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ অনেকটা কমবে বলে আশা করেছেন গ্রামবাসীরা। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে এসে এই এলাকায় বাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দীপঙ্কর জানা। ষষ্ঠীর দিনে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ঘিরে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। একসময় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই বাস পরিষেবা চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান। তাঁদের গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান এলাকার মানুষ। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বাস চলাচল শুরু হওয়ায় এবার যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা পাবেন বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা মিটিয়ে এই বাস পরিষেবা সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কতটা সহজ করে তোলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গ্রামবাসীরা।




