কলকাতা: দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে বামেদের বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে এবার সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর সময় বই বিক্রির উদ্যোগকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বামপন্থীদের নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, যারা দুর্গাপুজো বা অন্যান্য পুজোর পরম্পরাকে মানেন না, তাঁরা কেন পুজোমণ্ডপের সামনে বইয়ের দোকান খুলবেন? তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
বামপন্থীদের বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি বইয়ের বিরোধী নন। বরং বইপ্রেমীদের প্রতি তাঁর সম্মান রয়েছে। তবে তাঁর আপত্তি বই বিক্রির জায়গা এবং পুজোর পরম্পরার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। শুভেন্দুর বক্তব্য, সনাতনী হিন্দুদের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করার পর দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে বইয়ের দোকান খোলার উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়ে।
নিজের বক্তব্যে পুষ্পাঞ্জলি, নবমীর আরতি, সিঁদুরখেলা এবং ধর্মীয় রীতিনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একদিকে যাঁরা এই পরম্পরাগুলিকে গ্রহণ করেন না, অন্যদিকে তাঁরাই দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল বসাতে চান। এই অবস্থানের সমালোচনা করেই তিনি বামপন্থীদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিষয়টি নিয়ে আদালতের ভূমিকার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, কর্পোরেশন বা সরকার যা করেছে, তা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই করেছে। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
বামপন্থীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া একটি দলকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলার কোনও প্রয়োজন নেই। বইয়ের স্টল নিয়ে মামলায় হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি পৃথক প্রশ্ন—দুর্গাপুজোর মতো ধর্মীয় উৎসবের মণ্ডপের সামনে রাজনৈতিক বা মতাদর্শভিত্তিক বইয়ের স্টল বসানোর অধিকার এবং সেই উদ্যোগকে ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি বিধিনিষেধের সীমা কোথায় থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে বই বিক্রি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ এবং ঐতিহ্য রক্ষার যুক্তিও সামনে আসছে। ফলে পুজোর মণ্ডপে বইয়ের স্টল ঘিরে এই রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনেও আলোচনায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।




