চেন্নাই, নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত: ক্ষমতায় আসার পর তামিলনাড়ুর বিধায়কদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। ২৩৪ জন বিধায়কই এ বার সরকারি গাড়ি পাবেন। শুধু গাড়ি নয়, চালক, জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাবদ মাসে ৭৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এর সঙ্গে সরকারি কাজের জন্য সহকারী নিয়োগে আরও ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বিধায়ক-পিছু মাসে মোট ১ লক্ষ টাকার সুবিধা। পাশাপাশি বিধায়কদের স্বাস্থ্যবিমার কভারও পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলি সুবিধার ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে জনপ্রতিনিধিদের কাজের সুবিধা, না কি সরকারি কোষাগারে বাড়তি বোঝা?
বিধানসভায় বুধবার এই সিদ্ধান্তগুলি ঘোষণা করেন বিজয়। তাঁর যুক্তি, বিধায়কদের নিয়মিত নিজেদের বিধানসভা কেন্দ্রে যেতে হয়। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, অভিযোগ শোনা এবং প্রশাসনের কাছে সমস্যা পৌঁছে দেওয়া তাঁদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অনেক বিধায়কেরই নিজস্ব গাড়ি বা প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা নেই। বিশেষ করে প্রথম বার নির্বাচিত বিধায়কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি। সেই কারণেই সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু গাড়ি দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। গাড়ির চালক, জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও সরকার বহন করবে। এর জন্য মাসে ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হবে। পাশাপাশি সরকারি কাজের প্রয়োজনে একজন সহকারী রাখার জন্য আরও ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ গাড়ি সংক্রান্ত সুবিধা এবং সহকারীর খরচ মিলিয়ে প্রত্যেক বিধায়কের জন্য মাসে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই ঘোষণার পিছনে বিধানসভায় ওঠা একটি দাবিও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসিকে-র বিধায়ক জোথিমণি বিধায়কদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার অভাবের কথা তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের পরেই বিধায়কদের জন্য সরকারি গাড়ির প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিজয়ের সরকার সেই দাবিকে কার্যত মেনে নিয়েই নতুন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। বিধায়কদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষাতেও বড় ঘোষণা করেছেন বিজয়। মুখ্যমন্ত্রীর কমপ্রিহেনসিভ হেলথ ইনস্যুরেন্স স্কিমে বার্ষিক চিকিৎসা কভার ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রে পরিবারের সুরক্ষা এক ধাক্কায় পাঁচ গুণ বাড়ল। একই সঙ্গে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে আসন বাড়ানোর জন্য ৩৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মেডিক্যাল, নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল মিলিয়ে ৬,০৯৮টি অতিরিক্ত আসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সাতটি নতুন সরকারি নার্সিং কলেজ তৈরির কথাও জানিয়েছে সরকার।
ফলে বিজয়ের ঘোষণায় একসঙ্গে উঠে এসেছে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুই দিকই। শাসক শিবিরের যুক্তি, বিধায়করা এলাকায় আরও বেশি সময় দিতে পারবেন এবং মানুষের কাছে পৌঁছনো সহজ হবে। স্বাস্থ্যবিমার পরিধি বাড়ানো এবং চিকিৎসা শিক্ষায় বিনিয়োগের ফলে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন অন্য জায়গায়। ২৩৪ জন বিধায়ককে সরকারি গাড়ি, জ্বালানি, চালক, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সহকারীর জন্য নিয়মিত টাকা দিলে রাজ্যের কোষাগারে মোট কতটা অতিরিক্ত চাপ পড়বে? বিশেষ করে যখন রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তখন জনপ্রতিনিধিদের জন্য এত বড় আর্থিক সুবিধার প্রয়োজন কতটা, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির।
তবে বিজয় সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট বিধায়কদের সুবিধা কোনও ব্যক্তিগত ‘বোনাস’ নয়, বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে তাঁদের আরও দ্রুত ও কার্যকর ভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা। আর স্বাস্থ্যবিমার কভার পাঁচ গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সরকার দেখাচ্ছে বৃহত্তর জনকল্যাণের পদক্ষেপ হিসাবে।