সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী সপ্তাহেই ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই হতে পারে তাঁর প্রথম ভারত সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ২০ থেকে ২৫ অগস্টের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ডেলি স্টার’ কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দু’দিনের সফরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে ২০-২১ অথবা ২১-২২ অগস্ট নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক ভাবে সফরের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। ফলে শেষ মুহূর্তে সূচিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সোমবার ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেকের সঙ্গে সেটিই ছিল তাঁর প্রথম বৈঠক। সাক্ষাতের পর দিল্লিতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও বৈঠক করেন দীনেশ। বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা অবশ্য প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, তারেকের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলি মোদীর কাছে তুলে ধরতেই এই বৈঠক হয়ে থাকতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেকের সম্ভাব্য সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপিও বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার আপত্তি জানিয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন হওয়ার কথা। বাংলাদেশ সদস্যরাষ্ট্র না হলেও প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ঢাকা আমন্ত্রণ পেয়েছে। তবে তারেক রহমান সেই সম্মেলনে যোগ দেবেন না বলেই প্রায় নিশ্চিত বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। সেই পরিস্থিতিতে আলাদা দ্বিপাক্ষিক সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্য দিকে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে বিদেশ সফরের কথা রয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার কাজে নিউ ইয়র্কে যাবেন। তাই দুই দেশের পক্ষ থেকেই অগস্টের মধ্যেই তারেকের ভারত সফর চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে সূত্রের খবর।
তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সফরের দিনক্ষণ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।