টালিগঞ্জ, রেশমি ব্যানার্জি: টালিগঞ্জে বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ ঘিরে ধুন্ধুমার, বুলডোজার নামতেই বাধা, শেষ মুহূর্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে মিললো স্বস্তি। রবিবার ছুটির দিনে দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের সাহেববাগান এলাকায় একটি বহুতল ভাঙাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল। পুরসভার তরফে এটিকে বেআইনি ঘোষণা করে ভাঙতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে বুলডোজার দিয়ে ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার ঠিক মুখে কলকাতা হাইকোর্টের জরুরি স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত রক্ষা পেল ভবনটি।
অভিযোগ উঠেছে, ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে কোনো বৈধ ব্লু-প্রিন্ট বা আইনি অনুমোদন ছাড়াই তৃণমূল নেতা কুমার সাহা ভবনটি গড়ে তুলেছিলেন। এমনকি বিল্ডিংটিকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সম্প্রতি রঙ করা দেওয়ালের আড়ালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলীয় প্রতীকের ছবি অস্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ায় বিতর্ক আরও বাড়ে। এক অভিযোগকারীর দাবি, ওয়াকফ জমি জবরদখল করার প্রতিবাদ করায় তাঁকে এর আগে মারধরও করা হয়েছিল।
অন্য দিকে, ভবনে বসবাসকারী পরিবারগুলি দাবি করেছে যে এটি কোনও দলীয় কার্যালয় নয়, বরং তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে সেখানে সপরিবারে বাস করছেন। নির্বাচনের সময়ে প্রচারের খাতিরে দেওয়ালে রাজনৈতিক ছবি আঁকা হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। কোনও পুনর্বাসন ছাড়া আচমকা এভাবে উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে মহিলারা রাস্তায় নামেন।
পুরনিগমের দাবি, নিয়ম মেনেই আগে খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এইদিন বুলডোজার নিয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী হাজির হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ভাঙার কাজ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ওঠে। পুরসভা ও আবেদনকারীদের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি রাজা বসু রায়চৌধুরী নির্মাণটি ভাঙার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ ও নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।