মুম্বই: মুম্বইয়ের জুহুতে রবিবার সন্ধ্যায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর গুলি। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন অভিনেতা। তবে আহত হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক। ঘটনার পর সামনে এসেছে একাধিক সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিয়ো। তাতে দেখা যাচ্ছে, কী ভাবে বাইকে চেপে আসা হামলাকারীরা টাইগারের বিএমডব্লিউ সেডানের সামনে দাঁড়িয়ে গুলি চালাচ্ছে। একটি ভিডিয়োয় আবার দেখা যাচ্ছে, গাড়ির জানলার একেবারে কাছে এসে শেষবার গুলি চালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে এক আততায়ী। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, সেই সময় আগ্নেয়াস্ত্রটি জ্যাম হয়ে গিয়েছিল। আর সেই ঘটনাই কি বড় বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিল অভিনেতাকে? তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন হামলার নেপথ্যের কারণ এবং অভিযুক্তদের পরিচয়।
রবিবার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলা সেরে গাড়িতে ফিরছিলেন টাইগার। মুম্বইয়ের জুহুর পুষ্পা নার্সি পার্ক এলাকার কাছে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় বাইকে আসা তিন জন। তাঁদের মধ্যে দু’জন গুলি চালায়, তৃতীয় জন বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানলা লক্ষ্য করে গুলি চালানোর দৃশ্য ধরা পড়েছে ভিডিয়োয়। গাড়ির চালক ফিরদৌস গুলিতে আহত হন। তবে টাইগার অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর প্রকাশ্যে আসা একটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে দুই হামলাকারী গুলি চালাচ্ছে। এক জন গাড়ির জানলার কাছাকাছি পৌঁছে আরও এক বার গুলি চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে বার গুলি বেরোয়নি বলে মনে হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাই উঠে আসছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে। তবে অস্ত্রটি ঠিক কী কারণে কাজ করেনি, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
অন্য একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, গাড়িতে ওঠার আগে টাইগারকে ফুটবল খেলার জায়গা থেকে বেরোতে। হামলার পর আহত চালককে নিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিনেতা। একটি দৃশ্যে তাঁকে চালকের আসনে বসতেও দেখা গিয়েছে। গাড়ি ও রাস্তার উপর রক্তের দাগও দেখা যায়। আশপাশের মানুষের চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। চালককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার সময় কাছাকাছি থাকা আরও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলেও খবর।
ঘটনার পরই মুম্বই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত এক জনকে আটক করার কথা জানা গিয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক দল। কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, কত রাউন্ড গুলি চালানো হয় এবং হামলাকারীরা কী পথে পালিয়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের নামও। হামলার পর একটি অডিয়ো বার্তা এবং সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা এক ব্যক্তি হামলার দায় স্বীকার করেছে। ওই বার্তায় বলা হয়েছে, টাইগার শ্রফ নাকি আগেই সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। অভিনেতা সলমন খানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং কাজের সম্পর্কের কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সলমন খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ওই অডিয়োতে শোনা যায়।
তবে ওই অডিয়ো বা পোস্টের সত্যতা এখনও স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনও গোষ্ঠী দায় স্বীকার করলেই তাদের দাবি প্রমাণিত হয়ে যায় না। হামলাকারীদের পরিচয়, যোগাযোগের সূত্র এবং ঘটনার পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তকারীরা প্রমাণ সংগ্রহ করছেন।
ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মুম্বইয়ে এ ধরনের দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। টাইগার ও তাঁর বাবা জ্যাকি শ্রফের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন শিন্ডে। পুলিশ একাধিক দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তার পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে এই হামলা বলিউডের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে সলমন খানকে ঘিরেও একাধিক হুমকি ও হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এ বার টাইগারের নাম জড়ানোয় তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল, নাকি ভয় দেখিয়ে প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে হামলার ভিডিয়ো। তাতে হামলাকারীদের চলাফেরা, গুলি চালানোর ধরন এবং পালানোর পথ সম্পর্কে তথ্য মিলতে পারে। পাশাপাশি, জ্যাম হয়ে যাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বন্দুক বিকল হওয়ার কারণ এবং সেটি অভিনেতার প্রাণ বাঁচাতে কতটা ভূমিকা নিয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আপাতত টাইগার নিরাপদে থাকলেও আহত চালকের চিকিৎসা চলছে। আর হামলার নেপথ্যে কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা, তার উত্তর খুঁজছে মুম্বই পুলিশ।





