মুম্বই: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, টাইগার শ্রফকে নয়, মূলত অভিনেতা সলমন খানকে নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীদের। সলমনের বাড়ির সামনে নিরাপত্তার কড়াকড়ি দেখে পরিকল্পনা বদলানো হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান। এই ঘটনায় মঙ্গলবার আরও চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম কুণাল, সুমিত, রাধা এবং ববিতা। তাঁদের দিল্লি ও সোনিপত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলাকারীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজে তাঁদের ভূমিকা ছিল। চার জনকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এর আগে রাজস্থানের কোটা থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
অমৃতসর থেকে এল পিস্তল, কীভাবে পৌঁছল মুম্বইয়ে?
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড গুলি অমৃতসর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। ডিসিপি প্রবীণকুমার ত্রিপাঠীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কুণাল সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান। এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত অনিলের। এরপর অনিলের নির্দেশেই অস্ত্র সংগ্রহ করেন কুণাল বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, প্রায় দু’মাস আগে রাধার সঙ্গে পরিচয় হয় কুণালের। পরে পিস্তল নিয়ে মুম্বই যাওয়ার জন্য রাধাকে রাজি করান তিনি। ১৫ অক্টোবর রাধা ও তাঁর বান্ধবী ববিতাকে সঙ্গে নিয়ে নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছন কুণাল। পিস্তলটি রাখা ছিল রাধার ব্যাগে। ১৭ অক্টোবর তাঁরা মুম্বইয়ের দাদর স্টেশনে নামেন।
এরপর তাঁরা একটি হোটেলে ওঠেন। তদন্তকারীদের দাবি, পরদিন সকাল ১১টা নাগাদ এক কিশোর তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়। তার পরেই ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়।
গুলি চলল টাইগারের গাড়িতে, আহত চালক ও ভক্ত
ঘটনায় টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক ভক্ত গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লরেন্স বিশ্নোইয়ের ঘনিষ্ঠ গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিত ও হরমন সান্ধু হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর টাইগার শ্রফ ও সলমন খানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সলমনের বান্দ্রার বাড়ির সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিরাপত্তাও জোরদার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই হামলার নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং অস্ত্র সরবরাহের গোটা চক্রে আর কারা জড়িত।





