মুম্বই: বলিউডে ফের আতঙ্কের আবহ! অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় শুধু টাইগার শ্রফই ছিলেন না, তালিকায় নাম ছিল সলমন খান ও রণবীর কাপুরেরও। এমনকী, রণবীরের বান্দ্রার বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালানোর তথ্যও সামনে এসেছে। তবে রণবীরকে নিশ্চিতভাবে হামলার লক্ষ্য করা হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সলমনের বাড়িতে রেইকি, তারপর পরিকল্পনা বদল?
তদন্তের সূত্রে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর অভিযুক্ত শুটাররা প্রথমে সলমন খানের বাড়ির আশপাশে রেইকি করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু ২০২৪ সালে অভিনেতার বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে অভিযুক্তরা পিছিয়ে আসে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এরপরই তাদের নজর পড়ে টাইগার শ্রফের দিকে। পুলিশের তদন্তে দাবি, অভিনেতার দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফ্যান পেজের সাহায্য নিয়েছিল অভিযুক্তরা।
কেন নিশানায় টাইগার শ্রফ?
তদন্তকারীদের মতে, টাইগার শ্রফ প্রতি রবিবার জুহুর একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যেতেন। তাঁর এই অভ্যাস সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই তথ্য পেয়েছিল অভিযুক্তরা বলে সন্দেহ। সেখানে অভিনেতার সঙ্গে তুলনামূলকভাবে কম নিরাপত্তারক্ষী থাকেন বলে মনে করেছিল তারা। সেই কারণেই তাঁকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যাচ্ছে।
তবে এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা এবং হামলার নেপথ্যে কারা সরাসরি যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
রণবীর কাপুরের বাড়িতেও নজরদারি!
এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রণবীর কাপুরের নাম সামনে আসায়। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর বান্দ্রার বাড়ির আশপাশেও রেইকি চালানো হয়েছিল বলে সন্দেহ। কিন্তু রণবীরকে আক্রমণ করার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। বলিউডের আরও কোনও তারকা এই চক্রের নজরে ছিলেন কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতার একাধিক অভিযুক্ত
এই মামলায় রাজস্থানের কোটা থেকে তিনজন প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে মুম্বইয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ থেকে দুই মহিলা-সহ আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, আমেরিকায় থাকা অনিল পণ্ডিত এই হামলার পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সন্দেহ। তিনি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অস্ত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়া—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। সলমন খান ও রণবীর কাপুরকে ঘিরে ওঠা আশঙ্কার সত্যতা এবং এই চক্রের বিস্তৃতি জানতে এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।





