দার্জিলিং, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের কোলে তখনও দিনের ব্যস্ততা ঠিকমতো জমে ওঠেনি। পাহাড়ি শহরের সকালটা তখন চলছিল নিজের ছন্দে। টানা বৃষ্টিতে চারপাশ ছিল মেঘে ঢাকা, এবং স্টেশন চত্বরেও দেখা যাচ্ছিল চেনা ব্যস্ততা। কিন্তু হঠাৎ সেই স্বাভাবিক ছন্দ যেন কিছুটা ভঙ্গ হল। বিকট শব্দে চমকে উঠলেন আশেপাশে থাকা মানুষজনেরা। মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় স্বাভাবিক কাজকর্ম। ছুটে আসেন রেলকর্মীরা এবং শুরু করা হয় উদ্ধারকাজ। তারপরেই সামনে আসে বিপত্তির আসল ছবি।
সূত্রে খবর, বুধবার সকালে দার্জিলিং স্টেশনে ভেঙে পড়ে ট্রয়ট্রেনের লোকো শেডের একাংশ। ওই সময় শেডের কাছে বেশ কয়েকজন রেলকর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আচমকা শেডের অংশ ভেঙে পড়ায় অন্তত সাতজন রেলকর্মী আহত হন বলে রেল সূত্রে খবর।
এই ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আর দেরি না করে উদ্ধারকার্যে নেমে পড়েন অন্যান্য রেলকর্মীরা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে থমকে যায় ট্রয়ট্রেনের জয়রাইড পরিষেবা। বুধবার পরপর চারটি জয়রাইড বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে, আগে থেকে টিকিট কেটে রাখা পর্যটকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে হতাশা।
স্টেশনের বিপরীতে রাখা ওই লোকো সেডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গিয়েছে। এখানেই মূলত ট্রয় ট্রেনের ইঞ্জিন রাখা হয়। দুর্ঘটনায় শেডের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, রাত থেকেই এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। সকালের লোকো শেডের একাংশ ভেঙ্গে পড়ে। রেলকর্মী এবং স্থানীয়রা মিলে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তবে, ঠিক কি কারনে এই ঘটনা ঘটলো তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে এই দুর্ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, নাকি শেডের পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রেলকর্তৃপক্ষ। আপাতত নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।




