শিলিগুড়ি: পুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীদের ঢল। দার্জিলিংয়ের পাহাড় থেকে ডুয়ার্সের জঙ্গল—ছুটির মরসুমে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন বহু মানুষ। পাশাপাশি বাড়ি ফিরছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীরাও। ফলে শিয়ালদহ, হাওড়া ও কলকাতা স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলিতে আসন পাওয়া কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাস নামাল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)।
নিগম সূত্রে খবর, সারা বছর কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে বিভিন্ন রুটে আটটি বাস চলাচল করে। কিন্তু পুজোর চতুর্থী থেকে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিয়মিত পরিষেবার পাশাপাশি আরও ২২টি বাস চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে পরিষেবার সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এনবিএসটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্বিনীকুমার রায় জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদহ, কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গন্তব্যে অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে। বাড়তি বাসগুলির মধ্যে কয়েকটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এবং স্লিপার কোচ। পাশাপাশি রয়েছে নন-এসি বাসও। ফলে যাত্রীদের সামনে ভাড়ার ধরন ও পরিষেবা অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
সবচেয়ে বেশি বাস চালানো হচ্ছে কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে। এই পথে কলকাতা থেকে প্রতিদিন ১৮টি বাস ছাড়ছে। কয়েকটি বাস শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস হয়ে জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের দিকে যাবে। ফলে শুধু শিলিগুড়িগামী যাত্রীদেরই নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকার যাত্রীদেরও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা থেকে মালদহ, বালুরঘাট ও রায়গঞ্জের জন্য প্রতিদিন দু’টি করে বাস চালানো হচ্ছে। কোচবিহারের জন্য রয়েছে পাঁচটি পৃথক বাস। পুজোর মরসুমে ট্রেনের টিকিট না পেয়ে যাঁরা বিকল্প পরিবহণের খোঁজ করছেন, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নবমী পর্যন্ত কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গমুখী বাড়তি বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পুজোর ছুটি শেষে যাত্রীদের ফেরার চাপ সামলাতেও আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে নিগম। ২১ অক্টোবর দশমী। তার পরের দিন থেকেই অনেকে কলকাতায় ফিরতে শুরু করবেন। সেই কথা মাথায় রেখে ২২ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাস টার্মিনাস থেকে কলকাতাগামী রুটেও প্রায় সমসংখ্যক অতিরিক্ত বাস চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, যাত্রীদের চাহিদার উপরে নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে বাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের দীর্ঘপথে অতিরিক্ত বাস চালানোর ফলে স্থানীয় রুটে পরিষেবা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রীদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় যাতায়াত স্বাভাবিক রাখাও এখন পরিবহণ কর্তৃপক্ষের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। একই সময়ে ছুটি কাটাতে বাড়ি ফেরা এবং কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার জন্যও যাত্রীর চাপ তৈরি হয়। ট্রেনে টিকিটের সংকটের মধ্যে এনবিএসটিসির এই বাড়তি পরিষেবা কতটা স্বস্তি দিতে পারে, তা নির্ভর করবে যাত্রীদের চাহিদা এবং বাসের নিয়মিত চলাচলের উপর।





