নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাংবাদিককে সরাসরি ‘বোকা’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁর সংবাদমাধ্যমকে ‘সবচেয়ে খারাপ’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে আলোচনা। রাশিয়ার হাতে আটক এক মার্কিন নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করতে মস্কোকে কোনও সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন ঘিরেই এই বিতর্ক।
কী প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিক?
সম্প্রতি রাশিয়ার হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৭৪ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ড। তাঁর মুক্তির জন্য রাশিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কি মস্কোকে বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ারই নামান্তর ট্রাম্পকে এই প্রশ্ন করেন এবিসি নিউজের এক সাংবাদিক।
প্রশ্ন শুনেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনি কি বোকা? আপনি কোন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন?” সাংবাদিক এবিসি নিউজের নাম জানালে ট্রাম্প বলেন, “আপনি বোকা। আর আপনার সংবাদমাধ্যম সবথেকে খারাপ।”
এরপরও নিজের প্রশ্নের উত্তর জানতে চান ওই সাংবাদিক। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ঘিরে ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়াই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
কেন রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল আমেরিকা?
গত ১৬ অক্টোবর রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আইনের বেশ কিছু বিধান শিথিল করে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এর আওতায় রাশিয়ার পণ্যের উপর শুল্ক, রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং বিদেশি ব্যাঙ্কের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর করলে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান নিয়ে চলা আলোচনা বাধাগ্রস্ত হতে পারত। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে মস্কোর উপর চাপ কমবে।
কে এই স্টিফেন হাবার্ড?
মিশিগানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ড ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে আটক হন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার একটি আদালত তাঁকে ইউক্রেনের হয়ে ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। তবে হাবার্ড সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। মার্কিন বিদেশ দফতর তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের সময় তাঁর মুক্তির খবর সামনে আসে। ক্রেমলিনের দাবি, মানবিক কারণেই হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, কোনও বিনিময় হয়নি
ট্রাম্পের দাবি, হাবার্ডের মুক্তির জন্য আমেরিকাকে রাশিয়াকে কোনও কিছুই দিতে হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে মুক্তি নিয়ে আলোচনা থমকে যেতে পারত। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থামেনি। আর সেই প্রশ্নের মুখে সাংবাদিকের সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র বাক্যবিনিময় নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।





