ওয়াশিংটন, অঙ্কন দাস: আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বলেছিলেন যে, 'পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।' তাঁর কথা অনুযায়ী 'তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা লাভ করতে না পারে, সেজন্য আমেরিকা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।' সেই বার্তাই জিইয়ে রাখল আমেরিকা।
শুক্রবার (২১শে অগাস্ট,২০২৬) ইরানের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন যে, 'দেশটি গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামরিক সংকটের মুখে রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।' এই প্রসঙ্গে আমেরিকান রাষ্ট্রপতির বক্তব্য, আমি এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবেই দেখছি। ওই জলপথ এবং এর সংলগ্ন স্থলভাগের ওপর আমেরিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।'
এদিন একটি সাংবাদিক বৈঠকে আমেরিকার সর্বেসর্বা বলেন, 'ইরান আমেরিকার সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, কিন্তু ওয়াশিংটন যেসব শর্ত দিচ্ছে তা মেনে নিতে তারা অনিচ্ছুক।' এই চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সংযোজন; 'তারা অবশ্যই একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু সঠিক চুক্তিটি করার জন্য তারা প্রস্তুত নয়।'
ট্রাম্প ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক ব্যঙ্গ করেন। এছাড়াও ইরানকে পরোক্ষে দেউলিয়া হিসেবেও বর্ণনা করেন। তিনি জোরালো দাবি তোলেন ' দেশটির অর্থের টান পড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেতন দিতেও তারা হিমশিম খাচ্ছে। তাদের কোনো অর্থ নেই। তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই। কোনো বিমানবাহিনী নেই। তারা তাদের সৈন্যদের বেতন দিচ্ছে না, পুলিশকেও বেতন দিচ্ছে না। সেখানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৩৫০ শতাংশ।'
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্য সত্ত্বেও, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থার তুলনায় অনেক কম রয়েছে। কারণ হিসাবে উঠে আসে অব্যাহত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোয় ঘন ঘন হামলা।
যুক্তরাজ্যের 'মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস' (UKMTO) শুক্রবার জানিয়েছে যে,'হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল যুদ্ধের আগের সময়ের থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ কম। ওয়াশিংটন ও তেহরান গত জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল সংঘাত বন্ধ করা এবং প্রণালী দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।'
তবে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন হয়নি। শর্তাবলী এবং এই জলপথে নৌ-চলাচলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটানা মতপার্থক্যের জেরে সেই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েল আকস্মিক হামলার করে। শুরু হয় এই সংঘাতের।
পাল্টা জবাবে তেহরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং ইসরায়েলে থাকা আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে। ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ক্রমাগত বাড়ানোর সময়ই তাঁর এই সর্বশেষ মন্তব্যগুলো সামনে এল। ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই অভিযানকে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান উপায় হল অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ! যে কৌশলটি ওয়াশিংটন এখনও চালিয়ে যাচ্ছে।