নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, হিংসা ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ম্যাক্রোঁর ব্যর্থতার কারণে ফ্রান্সের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এমনকী, প্যারিস শীঘ্রই ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইমানুয়েল আমার বন্ধু। আমি তাঁকে অনেক আগেই বলেছিলাম, ফ্রান্সে তুমি বড় ভুল করছ। তুমি গোটা বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সে আসতে দিচ্ছ। গোটা বিশ্ব থেকেই মানুষ আসছিল।" ট্রাম্পের কথায়, “প্যারিস খুব শীঘ্রই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে, আর এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।” এর পরেই ফ্রান্সের সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ তিনি বহু আগেই ম্যাক্রোঁকে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছিলাম,ফ্রান্সের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আমরা আমাদের সীমান্ত বন্ধ করেছি, কিন্তু ওরা করেনি। আর জানেন কী? ওদের সীমান্তই এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
https://x.com/FoxNews/status/2112304956225028392?s=20
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফ্রান্সের একাধিক শহরে বিক্ষোভের পাশাপাশি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় রাতের কার্ফু এবং জনসমাবেশের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনায় প্রায় ২,৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় ১,০০০ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
তবে ফ্রান্সের অশান্তির কারণ হিসাবে শুধুমাত্র অভিবাসন বা ধর্মীয় অশান্তি নয়, একইসঙ্গে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথাও উঠে এসেছে। বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি প্রশাসনও হিংসা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।




