নিউজ ডেস্ক: টেলিভিশনের পর্দায় যে জনপ্রিয়তার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী দেখানো হচ্ছে, মাটিতে নেমে কি সেই ছবিটা মিলছে না? খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাম্প্রতিক এক সমাবেশকে ঘিরে এই প্রশ্নটাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে আছড়ে পড়েছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সভার কিছু দৃশ্য এবং বিরোধীদের একের পর এক তোপ দুই মিলিয়ে বিধানসভা ও লোকসভার রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সংক্ষিপ্ত ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সভার মঞ্চের সামনে লাল রঙের চেয়ারের দীর্ঘ সারি পাতা রয়েছে, কিন্তু তার সিংহভাগই ফাঁকা। মঞ্চে নেতারা বক্তব্য রাখলেও দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট অংশে উপস্থিতির হার ছিল একেবারেই হাতে গোনা। বিরোধী শিবির এবং নেটিজেনদের একাংশ দৃশ্যটিকে ‘অনুষ্ঠান শেষের পর বিয়ের বাড়ির ফাঁকা মণ্ডপ’-এর সঙ্গে তুলনা করে খোঁচা দিতে ছাড়েননি।
https://x.com/TheRebel_IN/status/2111364087212884322?s=20
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আলোচনার পারদ আরও চড়েছে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক সমীক্ষাকে ঘিরে। যেখানে দাবি করা হয়েছিল, রাজ্যের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ এখনও যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। সমালোচকদের প্রশ্ন, যে জনপ্রিয়তার হার পর্দায় ‘ল্যান্ডস্লাইড’ বা বিপুল জনসমর্থন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবের মাটিতে সেই জনজোয়ারের দেখা নেই কেন? সভার দৃশ্যটিকে হাতিয়ার করে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে লেখা হচ্ছে, ‘টিভি স্ক্রিনে ৬৬ শতাংশ, কিন্তু মাঠে বসে শোনার জন্য ৬৬ জনও নেই।’ পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলকেও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে একটি ইঞ্জিন সভায় চলে আর অন্যটি টিভির সমীক্ষায়।
বিরোধীদের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশের আসল ছবিটা ধরা পড়ছে মাঠের শূন্যতায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন এই জনশূন্য সভামঞ্চ। বিরোধীদের দাবি, সংবাদমাধ্যমের সমীক্ষা সাজিয়ে জনমত তৈরি করা সম্ভব হলেও, বাস্তব ক্ষোভকে ঢেকে ফেলা যায় না।
তবে এই সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে সরকার ঘনিষ্ঠ ও দলের স্থানীয় নেতাদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সভার নির্দিষ্ট একটি সময়ের বা সভার শুরুর আগের ফ্রেম কেটে প্রচার চালানো হচ্ছে। মূল কর্মসূচির সময়ে মাঠ পূর্ণ ছিল কি না, তা যাচাই না করেই বিরোধীরা বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে।
ভিডিওর সত্যতা বা তা সভার কোন পর্বের তা নিয়ে বিতর্ক জারি থাকলেও, বারাণসীর এই দৃশ্য রাজ্যের ভোট-রাজনীতিতে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে শাসক শিবিরের অন্দরে। পর্দায় সমীক্ষার চমক নাকি মাঠের চাক্ষুষ উপস্থিতি কোনটি সাধারণ মানুষের মনের আসল প্রতিচ্ছবি, তা নিয়ে চর্চা চলছে সব মহলেই।





