নিউজ ডেস্ক: কাগজের অভাব নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? বাজারে প্রয়োজনীয় সামগ্রির অপ্রতুলতা ঘিরে এমনই এক প্রশ্ন সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এবার উঠেছে একাধিক অভিযোগ। কেন নির্দিষ্ট মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার সহজে মিলছে না, কোথায় যাচ্ছে সেই কাগজ এবং এর পিছনে কোনও প্রশাসনিক নির্দেশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
রাজ্যে ১০ ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারের অপ্রতুলতার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছে একাধিক জনস্বার্থ মামলা। মামলাকারীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে এই দুই মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। ফলে, প্রয়োজনীয় কাজে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধান এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি ঘিরে বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে।
মামলাকারীদের অভিযোগ, অনুমোদিত স্ট্যাম্প পেপার বিক্রেতাদের প্রশাসনের তরফে একটি অলিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের জেরেই বাজার থেকে পঁচিশ হাজার এরও বেশি স্ট্যাম্প পেপার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে, এই অভিযোগের সত্যতা এবং স্টাম্প পেপার সরিয়ে নেওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া স্ট্যাম্প পেপারগুলি রাজ্যের বিভিন্ন থানায় পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে স্ট্যাম্প পেপারে সই করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই দাবি গুলি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্ট্যাম্প পেপার সাধারণ মানুষের বিভিন্ন নথি ও আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। তাই নির্দিষ্ট মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার সহজে না পাওয়া গেলে একাধিক প্রয়োজনীয় কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষত জরুরি নথি তৈরি কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এই সমস্যার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন নজর কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বাজারে স্ট্যাম্প পেপার ঘাটতির প্রকৃত কারণ কি, সেগুলি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না এবং প্রশাসনের কোনও নির্দেশ ছিল কি না, এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললে বিতর্কের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।




