বারাণসী: গঙ্গার আকাশে কখনও যুদ্ধবিমানের গর্জন, কখনও নিখুঁত সমন্বয়ে একের পর এক কসরত। বিমানের ডানায় ভর করে আকাশজুড়ে ফুটে উঠল ভারতীয় বায়ুসেনার দক্ষতা। রবিবার বারাণসীর নমো ঘাটে ‘উইংস ওভার গঙ্গা’ শীর্ষক এই বিশেষ বিমান প্রদর্শনী ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। ভারতীয় বায়ুসেনার ৯৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনের এই অনুষ্ঠানের শেষ দিনে হাজির হয়ে বিমানবাহিনীর প্রদর্শনী দেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় বায়ুসেনার বিভিন্ন প্রদর্শনী দল এবং যুদ্ধবিমানের সমন্বিত কসরত ছিল এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
সুখোই থেকে তেজস, আকাশে শক্তির প্রদর্শন
বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদর্শনীতে অংশ নেয় সুখোই-৩০ এমকেআই, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান এবং এলসিএইচ প্রচণ্ড হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার। পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন হেলিকপ্টারের প্রদর্শনী। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত গতির কসরত এবং আকাশে বিমানের সমন্বিত চলন দর্শকদের নজর কাড়ে।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল কিরণ প্রশিক্ষণ বিমানের উড়ান। তিনটি কিরণ বিমান ‘ভি’ আকৃতিতে আকাশে উড়ে তেরঙার আবহ তৈরি করে। অন্য দিকে, জাতীয় পতাকা নিয়ে উড়ে যায় এমআই-১৭ হেলিকপ্টার। আকাশে ‘ওম’ আকৃতির বিন্যাসও প্রদর্শনীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
বায়ুসেনার সূর্যকিরণ অ্যারোবেটিক দল নিখুঁত সমন্বয়ে একের পর এক কসরত দেখায়। আকাশে দ্রুত দিক পরিবর্তন, কাছাকাছি দূরত্ব বজায় রেখে উড়ান এবং পরিকল্পিত বিন্যাসে বিমানের চলন দর্শকদের মুগ্ধ করে। সারং হেলিকপ্টার প্রদর্শনী দলও বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে নজর কাড়ে।
গঙ্গার ঘাটে ভিড়, প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনায় স্থানীয়েরা
প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে এবং বিমান প্রদর্শনী উপভোগ করতে নমো ঘাট ও আশপাশের এলাকায় বহু মানুষ জড়ো হন। পুলিশ লাইন থেকে নমো ঘাট পর্যন্ত যাত্রাপথের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। কোথাও ফুলের পাপড়ি ছড়ানো হয়, কোথাও চলে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের একাংশ ‘হর হর মহাদেব’ ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন।
গাড়ি থেকে হাত নেড়ে তাঁদের অভিবাদন জানান মোদী। প্রদর্শনী দেখতে আসা দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, কাশীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের সঙ্গে আকাশে যুদ্ধবিমানের কসরত এক বিশেষ আবহ তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বায়ুসেনা ও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে।
বারাণসীতে পোশাক কারখানারও উদ্বোধন
রবিবার বারাণসী সফরে বিমান প্রদর্শনীর পাশাপাশি শিল্প ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কর্মসূচিতেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। মির্জামুরাদ এলাকায় অরবিন্দ লিমিটেডের একটি নতুন পোশাক উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কেন্দ্র চালু হলে এলাকার শিল্পোন্নয়ন এবং বস্ত্র ও পোশাক উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রসারে সাহায্য মিলবে। বিশেষ করে মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সেখানে প্রায় ৩০০ মহিলার সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। উৎপাদিত পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, বারাণসীতে ‘উইংস ওভার গঙ্গা’ শুধু একটি বিমান প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ও প্রদর্শনী দলের দক্ষতা, গঙ্গার ঘাটে দর্শকদের উৎসাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে রবিবারের আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় বিশেষ আবহ।




