নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত: আরে মশাই, পুজোয় রাজনীতি বরাবর ছিল এবং পুজো থাকলেই রাজনীতিও থাকবে। একদা জাঁদরেল জমিদারদের দুর্গাপুজোয় যেমন প্রবল রাজনীতির অঙ্ক ছিল, পরবর্তী সময়ের বারোয়ারী পুজোগুলিতেও দাপটের সঙ্গে রাজনীতি থেকেছে। কলকাতার বড় পুজো গুলো একদা নিয়ন্ত্রণ করতো কংগ্রেসের হোমড়াচোমড়ারা। তারপর এলো বামফ্রন্ট। কিন্তু কলকাতার পুজো মোটামুটিভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বামবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিমানেরা!
এবার তো বারোয়ারী পুজোর দখলদারি নিয়ে রীতিমত ধুন্ধুমার রাজনৈতিক পরিস্থিতি! যে দুর্গাপুজো নিয়ে এত হুল্লোড় সেই পুজোর গল্পটিই তো রাজনীতির। দুর্গার অসুর বধের সেলিব্রেশন! তো এই পুজো বা জয়ের সেলিব্রেশন শুধুই 'ভক্তি' দিয়ে সম্পন্ন হবে, এমনটি বোধহয় কেউই ভাবেন না! 'যুক্তি' দিয়ে পুজো অথবা ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাখ্যা দিতে পারেন এমন মানুষের বা পণ্ডিত মানুষের সংখ্যা কম পড়েনি কোনোদিন। কী জানি ! কূ-যুক্তিও হয়ত একপ্রকারের যুক্তি। রাজনীতির ক্ষেত্রে কখনও কখনও তার প্রয়োজন অনিবার্য হয়ে ওঠে!
বড় বিচিত্র সব সামাজিক প্রথা!
প্রশ্নহীন ভাবে বেঁচেও থাকে অনন্ত সময়! দুর্গাপুজোয় কল্পিত অসুর বধ হয়ে গেলেই পরের দিন থেকে শুরু হয়ে যায় বিজয়া দশমী! 'শুভ বিজয়া'!
আশ্চর্য কাণ্ড! একটি মৃত্যুকে সেলিব্রেট করতে হবে ধর্মীয় প্রথা মেনে!
জীবন বড় স্ববিরোধিতায় ভরা!
ছোটোবেলা পেরিয়ে বড় বেলারও অনেকগুলো বছর একটি প্রথা মেনে এসেছি কোনও প্রশ্ন ছাড়াই। দশমীর পরের দিন থেকে বিজয়ার প্রণাম এবং প্রণাম জানিয়ে চিঠি লেখা। কবে কেন কিভাবে শুরু হয়েছিল এই প্রথাটি এখনও জানা হয়নি। কিন্তু লিখতে হতই! শ্রীচরণেষু... ইত্যাদি ইত্যাদি! বিজয়ার প্রণাম না জানালে বা দেরি হলে আমার কমিউনিস্ট বাবাও ক্ষুব্ধ হতেন! বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে অবশ্য আমার বেশ লাগত। প্রণাম নিয়েও অনেক গল্প। আপাতত থাক সেসব।
পুজোয় কেন বামপন্থীদের বইয়ের স্টল থাকবে, এমন একটি ছেলেমানুষি তর্ক এবার উঠে এসেছে। বলাবাহুল্য এই তর্কের জেরেই সম্ভবত বামপন্থীদের বইয়ের স্টলগুলোতে বই বিক্রি বৃদ্ধি পেতে পারে। বা ভাঙচুরের মত ঘটনাও ঘটতে পারে। যা বইয়ের পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন।




