বেজিং,নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার পর এবার চীন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী'র জোড়া তীর (এন জয়শঙ্কর এবং অজিত ডোভাল)-র কূটনৈতিক দৌত্যে পররাষ্ট্র বিষয়ে ভারত সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।গতকাল এন জয়শঙ্কর রাশিয়া সফর করেছেন। অন্যদিকে ভারত-চীন সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বেইজিংয়ে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে ২৫তম 'বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা'র প্রাক্কালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তথা উন্নয়নের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেছে। আজ বেইজিংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-চীন সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সীমান্ত সমস্যা এবং 'লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল' (LAC) বরাবর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে যে, ভারত ও চীনের নেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতে সীমান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষই গভীর যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়েও দেশ দুটির মধ্যে মতবিনিময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত বরাবরই বলে এসেছে 'বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অপরিহার্য।' গত ৬ই আগস্ট অনুষ্ঠিত 'ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন' (WMCC)-র ৩৬তম বৈঠকে উভয় পক্ষ এলএসি-র পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। তারা বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়, যাতে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করা যায় এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব হয়। হান ঝেং-এর সঙ্গে অজিত ডোভালের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক সীমান্ত আলোচনা এসবই ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত সীমান্ত শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।