রাশিয়া,নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার সাথে মিত্রতার নীতিতে, আরও মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলতে, আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস.জয়শঙ্কর আজ ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার এবং যুগ্ম সচিব (ইআরএস) ময়ঙ্ক সিং। দুই নেতা ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এই বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আসন্ন উচ্চ-পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় ড. এস. জয়শঙ্কর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে শক্তিশালী ও ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব; বিশেষত অর্থনৈতিক সহযোগিতা,বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।এছাড়াও তাঁর একটি ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করেন।
ড. জয়শঙ্কর জানান যে, দিনের শুরুর দিকেই দুই পক্ষের মধ্যে 'আন্তঃ-সরকারি কমিশন'-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি এর ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্য, জ্বালানি, সার এবং পারমাণবিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশকেকে অনুষ্ঠিতব্য এসসিও (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তাঁকে ভারতে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি যোগ করেন যে, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে দুই নেতার বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড. জয়শঙ্কর বলেন, এই ঘটনাপ্রবাহ ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার একটি শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরে।
এই বৈঠককালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতে সার সরবরাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন এবং জানান যে, 'ভারতীয় কৃষক ও দেশটির কৃষি খাতে সহায়তার লক্ষ্যে মস্কো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।' তিনি এ বছর রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'দুই দেশ কার্যত সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করছে, যা তাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ব্যাপক ও সম্প্রসারণশীল প্রকৃতিরই প্রতিফলন।' এর আগে, মস্কোতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এবং রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভ যৌথভাবে ‘বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক ভারত-রাশিয়া আন্তঃ-সরকারি কমিশন’-এর একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্ব ধারাবাহিকভাবেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে; আর এই সম্পর্কের মূলে রয়েছে পারস্পরিক স্বার্থ ও আস্থা।’
২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, বিদেশমন্ত্রী সেগুলোর কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা, অর্থ আদান-প্রদান বা পেমেন্ট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি। বৈঠক চলাকালে উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে। এছাড়াও ভারত-রাশিয়া অংশীদারিত্বের বর্তমান অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। দুই দিনের সফরে ড. জয়শঙ্কর গতকাল মস্কো পৌঁছান। এই সফরের সময় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য তাঁর রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।