কলকাতা, কেয়া মণ্ডল: আবারও কলকাতায় ভেঙে পড়ল জরাজীর্ণ বাড়ি। মঙ্গলবার সকালে জোড়াবাগানে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো বাড়ি ভেঙে এক মহিলার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড়বাজারের পোস্তা এলাকায় ফের বাড়ি ভাঙার ঘটনা ঘটল। আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বাড়ির উপরের অংশ। বাড়ির ভিতরে আটকে পড়েছিলেন সাত জন। যদিও প্রত্যেককেই নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ, কলকাতা কর্পোরেশনের টিম, দমকল বাহিনী ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগায় ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বাহিনী। একাংশ ভেঙে পড়ার ফলে সেই বাড়িতে আটকে ছিল অনেকে। তারপর একে একে সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দমকল সূত্রে খবর। যদিও ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। তেমন কেউ আহত হয়নি বলেই জানিয়েছে দমকল বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পোস্তার এই বাড়িটিও পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ছাদ এবং দেওয়ালের ফাটল থেকে গজিয়ে উঠেছিল আগাছা। জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যেই বাড়ির একাংশে বসবাস করছিল একটি পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিবাদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটির কোনও বড়সড় সংস্কার হয়নি। ওই বাড়ির বাসিন্দারাই নিজেদের মতো করে টুকটাক মেরামতির কাজ করতেন। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়িটির দুর্বল কাঠামো আরও নড়বড়ে হয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকালে আচমকাই বিকট শব্দে বাড়ির ছাদ থেকে উপরের অংশ ভেঙে পড়ে। বাড়ির সামনের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন স্থানীয়রা ও প্রশাসনের কর্মীরা। বাড়ির ভিতরে আটকে থাকা সাত জনকেই নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, 'সামনের অংশটা পুরো ভেঙে পড়েছে। বাড়িতে ছয়-সাত জন থাকতেন। তবে কারও কোনও আঘাত লাগেনি।' আর এক বাসিন্দার অভিযোগ, 'পুরসভার তরফে কোনও নোটিসও টাঙানো হয়নি। যাঁরা থাকতেন, তাঁরা টুকটাক রিপেয়ারিং করতেন। টানা বৃষ্টির জেরেই শেষ পর্যন্ত বাড়িটা ভেঙে পড়ল।'
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে জোড়াবাগান এলাকার ৩১ নম্বর ব্রজদুলাল স্ট্রিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে এক শতাব্দী প্রাচীন তিনতলা বাড়ির একাংশ। এই ঘটনায় এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। একই দিনে জোড়াবাগান এবং পোস্তায় পরপর পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ায় ফের প্রশ্নের মুখে কলকাতার পুরনো বাড়িগুলির নিরাপত্তা এবং পুরসভার নজরদারি। বর্ষার সময় শহরের এমন বিপজ্জনক বাড়িগুলির ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা ও সংস্কারের ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।