লখনউ: বিজেপিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আনন্দে তখন অভিনন্দনের বন্যা। লখনউয়ে দলের পদে যোগ দিয়ে কানপুরের বাড়িতে ফিরেছিলেন রমেশ যাদব। কিন্তু রাত গড়াতেই সেই আনন্দ বদলে গেল আতঙ্কে। অভিযোগ, গভীর রাতে মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীরা তাঁর ফার্মহাউসে ঢুকে তাঁকে বেঁধে ফেলে। তার পর নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দেয় তারা। লুটের অঙ্ক প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেলেও, ঠিক কত টাকার সম্পত্তি খোয়া গিয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের কানপুরের সেন-পশ্চিম পাড়া এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার, ১২ অক্টোবর রাতে ফার্মহাউসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন রমেশ। সে সময়ই সেখানে হানা দেয় মুখোশধারী দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে কাবু করে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। তার পর ঘরের ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাঁকে একটি বাথরুমে আটকে রেখেও পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তেরা।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পরেই হামলা
বিজেপির পিছিয়ে পড়া শ্রেণি মোর্চার রাজ্য সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন রমেশ যাদব। ১ অক্টোবর তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। সোমবার লখনউয়ে গিয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কানপুরে নিজের ফার্মহাউসে ফেরেন তিনি। কিন্তু রাতের সেই হামলা ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে নিরাপত্তা এড়িয়ে দুষ্কৃতীরা সেখানে ঢুকল এবং কী ভাবে এত দ্রুত পালিয়ে গেল?
ফার্মহাউসটি কানপুর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। জায়গাটি ঘিরে উঁচু পাঁচিল রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তা সত্ত্বেও কী ভাবে দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, ফার্মহাউসের অবস্থান, ভিতরের বিন্যাস কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিযুক্তদের আগে থেকে ধারণা থাকতে পারে। তবে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পুলিশ।
নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে ঘটল ডাকাতি?
ঘটনার পরই এলাকায় পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। তদন্তে নেমে ফার্মহাউস এবং আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের পরিচয় জানার পাশাপাশি তাদের পালানোর পথও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
ফার্মহাউসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভূমিকাও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১২ থেকে ১৪ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষী, সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং গাড়িচালকও রয়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের কারও বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
লুটের অঙ্ক নিয়ে ধোঁয়াশা
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি লুট হয়েছে। তবে পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে ক্ষতির অঙ্ক কম বলে অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ কত, তা স্পষ্ট হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। চুরি যাওয়া সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
কে এই রমেশ যাদব?
স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ রমেশ যাদব। তিনি তিন বার ব্লক প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর স্ত্রী শশী যাদবও একই পদে ছিলেন। ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিঠুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রমেশ। পরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। সম্প্রতি পিছিয়ে পড়া শ্রেণি মোর্চার রাজ্য সম্পাদক পদে দায়িত্ব পাওয়ায় দলের মধ্যে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছিল।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন ডাকাতির ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। আপাতত পুলিশের লক্ষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য সূত্রের সাহায্যে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এই ডাকাতি ঘটল, আর অভিযুক্তেরা কি আগে থেকেই ফার্মহাউসের ভিতরের খবর জানত—তদন্তে এখন সেই প্রশ্নগুলিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
